*আত্ম কথা……

ভাবনা গুলো ছড়িয়ে যাক সবার প্রাণে…

Tag Archives: বাসে

বাসে বাসে বসে……

বাসে চলাচল করি সহজ কথায় বলি এখনও টাকা পয়সা হয় নাই যে গাড়ি কেনার তবে ইনসাল্লাহ একদিন হবে সে দিন আর উঠতে মন চাইবেনা। একটা বাইক কেনার ও ইচ্ছা ছিল কিন্তু কেনা হয় নাই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারনে। তাই অন্য সবার মত লোকাল বাসেই আমার কৈশর থেকে যৌবন কাটাতে হচ্ছে । যারা ঢাকার বাসে নিয়মিত চলাচল করেন তার অনেক নিয়ম জানেন। যেমন সামনের ডান পাশে ৯ টা সীট সমঅধিকার দলের লোকজনের জন্য। আগে নামতে দিন পরে উঠুন। কাউন্টার ছাড়া বাস থামায় না। নিদিষ্ট দূরুত্বের অতিরিক্ত ভ্রমন করবেন না। হেলপারের সাথে লেনদেন করবেন না। যদি সব সীট ফিলাপ হয়ে যায় একপাশ হয়ে রড় ধরে দাঁড়ানো ইত্যাদি। এর অনেক গুলা অনেকেই মানেন না। তাই বাসের মধ্যে অনেক সময় তর্কাতর্কি হয়, একজন আরেক জন কে নিয়ম শেখায়, ভদ্রতামী শেখায়,জ্ঞান বিনিময় হয়।

একদিন বাসে করে বাসায় ফিরছিলাম সন্ধ্যার সময় কিছুক্ষন খেয়াল করে বুঝে নিলাম বাসের মধ্যে কোন এক মহিলার গায়ে নাকি কে ধাক্কা দিলো। আমি চুপচাপ বসে রইলাম আর আমার সাথে ছিল দুইটা হুজুর, উনারা কিছুক্ষন পর পর আমারে প্রশ্ন করত এটা কোন যায়গা আমি ও বলতাম। কিন্তু এবার আমারে প্রশ্ন করল ভাই কি হয়েছে সামনে আমি বললাম জানি না। কিন্তু হুজুর সাহেব এত উৎসাহী যে আমাকে টপকিয়ে গিয়ে স্পটে থেকে ফিরে এসে আমাকে ব্রিফিং দিচ্ছে কি হয়েছে। আমি শুধু শুনেই গেলাম। একটা মহিলার শরীরের সাথে সাথে অন্য কোন মহিলার শরীরের ধাক্কা লেগেছে তাই এত হইচই, আমি বললাম হু, আর একটা কৃত্রিম হাসি দিলাম। মানে তাকে বুঝালাম আপনার ব্রিফিং টা আমার ভালো লেগেছে খুব কাজের কাজ করেছেন ইত্যাদি ইত্যাদি। আমার হাসির জন্য মনে হয় হুজুর আমার সাথে আরেক টু ক্লোজ হয়ে গেল, আর বলতে লাগলো নারী বিদ্দ্বেশী নানা মূখ রোচক কথা। আমিও তার কথায় টাইম মত এক্সপ্রেশন দিতে লাগলাম। হুজুর টা আমারে তার অতীতের একদিন বাস জার্নির কথা বলতে লাগল।  “

আমি একদিন বাসে করে যাচ্ছিলাম তাড়াহুড়ো করে সামনের সীটে বসলাম আমি কিন্তু জানতাম না সামনের সীট কাদের জন্য বরাদ্দ । কিছু দূর যাওয়ার পর খেয়াল করলাম আমি এক মহিলার সাথে একই সীটে বসে আছি। আর ঐ মহিলাটা আমার দিকে এমন ভাবে তাকিয়ে আছে যে বাসে উঠাটাই আমার আপরাধ। আমি ও তাকালাম, মনে হচ্ছে আমাকে কিছু বলতে চায়। আমি তাকলাম বললাম কিছু বলবেন ? এটা তো মহিলাদের সীট আপনি বসছেন কেন ? আমি বললাম আমি তো জানি না। এত্ত সীট খালি থাকতে আমার সাথে এসে বসলেন কেন? আমি বললাম ঠিক আছে আমি অন্য সীটে চলে যাচ্ছি বলে তার ২ টা সীট পিছনে বসলাম। পরের কাউন্টারে যখন বাস থামছে দেখলাম কয়েক টা কলেজের ছাত্র উঠল এবং এদের মধ্যে একজন ঐ মহিলার সাথে বসল। আমি কিচ্ছু বলি নাই শুধু দেখে যাচ্ছি। কিন্তু ঐ মহিলাটা ঐ পোলারে কিচ্ছু কয় নাই। মনে হয় ওর সাথে বসে মঝা পাচ্ছে। আমার থেকে বয়স কম ঐ পোলার চেহারাটাও সুন্দর কিন্তু স্বাস্থ্য  ভাল ছিল না। কয়েক টা কাউন্টার পর ঐ হুজুর বিদ্দ্বেশী মহিলাটা নেমে গেল’’

এবার চিন্তা করে দেখেন হুজুর দেখলে এরা কত্ত কিছু মনে করে পাত্তা দেয় আমাদের মনে করে আমদের ঐটা নাই। অথচ আমরা ওদের পোলাপাইন হইলে কানের কাছে গিয়া আজান দিন। কোন সমস্যা হইলে মিলাদ পড়াই অথচ আমাগো লগে বইতে উনাগো কষ্ট হয় লজ্জা লাগে।

এই কথা বলার কয়েক ক্ষন পরে হুজুর ২ টা নেমে গেল। আর আমি ভাবতাছি হুজুরেরা কি আমাগো কাছ থেকে আলাদা নাকি ওদের কি কয়েক টা পার্টস আমাদের চেয়ে বেশি না কম চিন্তা করলাম। চিন্তা করতে করতে বাসায় চলে এলাম। পরে আর চিন্তা করা হয় নাই। এই ভাবে প্রতিদিন কত রকমের মানুষের সাথে চলাফেরা করি কথা বলি কিন্তু কয়টা মনে রাখি? একবার এক উঠতি ডাক্তারে সাথে পরিচয় হল ফোন নাম্বার ও নেওয়া হল মাঝে মাঝে ফোনে কথা হত এখন আর হয় না। আবার একদিন এক আপরিচিত একচাচা আমাকে বাস ভাড়া দিলেন আমার কাছে ভাংতি ছিল না বলে। কত যে পকেট মার আমার পকেটে হাত দিয়েছিল কিন্তু উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারে নাই। এক পকেট মার ভুলে আমার অন্য যায়গায় হাত দিয়ে যে কি বিপদে পড়ছিল। আমার মনে হয় এই শোকে ১ মাস পকেট মারা ছেড়ে দিছে। কত মেয়ে আমার দিকে একপলক চেয়ে থাকত আমিও চেয়ে থাকতাম কত নাম না জানা স্কুল কলেজের ছাত্রীর দিকে, কিন্তু সময় কি দ্রুত শেষ হয়ে যায় একটা শব্দ ও কথা বলতে পারি নাই শুধু বাসায় এসে আপসোস করতাম। আরা আমার যে দোস্তরা রোমিও ওরা আমারে বলত আমার দ্বারা নাকি এই সব হবে না। কত হকার তাদের জীবিকা নেয় এই বাস সার্ভিস থেকে কত মেয়ে পুরুষের সাথে ধাক্কা খায় এই বাসে কত ড্রাইভার কত হেলপার বদ নজরে তাকায় যদি কোন নারী জিন্স পরে বাসে উঠে। কত উঠিত বয়সের পোলাপাইন টিকেট ছাড়া বাসে উঠে না তুললে গ্লাস ভাংগে। কত প্রমিক প্রেমিকা ২ সীটে বসে কত কথা বলে কত ক্লোজ ভাবে বসে আর আমি পিছনে বসে বসে মঝা নি। আরো কত ঘটনা ঘটে আমার অগোচরে। জানি না ।

পুনশ্চঃ

আমার এক মামাতো বোন আছে বলা যেতে পারে বিয়ার বয়স হইছে যদিও আমার থেকে ছোট। আমার ছোট মামা আবার ওর মেজ মামা মাঝে মাঝ কয় তোর লগে হুজুরের বিয়া দিমু। আর আমার মামাতো বোন এটা শুনতেই পারে না হুজুরের কথা। পরে আমি ও মাঝে মাঝে দুঃষ্টামি করে বলতাম তোর সাথে হুজুরের বিয়া দিমু। কারন আমাদের সামনে কোন বিপদ আপদ হইলে তোর জামাই আমাগোরে পানি পড়া দিবো তাবিজ দিবো ইত্যাদি ইত্যাদি। সে আমারে রিপ্লে দিত আপনার লগে মাদ্রাসায় পড়া মাইয়ার বিয়া দিমু। আমি কইতাম হ রাজি আছি তুই খুজে দে। আসলে আমার কিন্তু মাদ্রাসায় পড়া মেয়েদের প্রতি দুর্বতা কাজ করে ক্যন জানি না। তবে ইচ্ছা আছে একটা মাদ্রাসায় পড়া মেয়ের লগে কয় দিন প্রনয় ঘটিত ব্যপার সেপার করুম। জানি না সম্ভব হবে কি না ।

Advertisements