*আত্ম কথা……

ভাবনা গুলো ছড়িয়ে যাক সবার প্রাণে…

Tag Archives: ইন্ডিয়ান ভিসা

সম্ভবনার নতুন ক্ষেত্র ইন্ডিয়ান হাই কমিশন…

গত ৬ ডিসেম্বর ২০১০ এ আমার এপয়েন্টম্যন্ট ডেট ছিল ইন্ডিয়ান হাই কমিশন এর গুলশানের অফিসে। সময় মত গেলাম। প্রথমে ঢুকার সময় আগাগোড়া চেক করে হাতে একটা টোকেন দিয়ে বসিয়ে রাখল ঘন্টা খানেক। তারপর এপ্লিকেশনের বার কোড চেক করা হল। ঘন্টা খানেক বসিয়ে শুধু মাত্র বার কোড টাই চেক করল !!! আচ্ছা যাই হোক বার কোড চেক করার পর হাতে ধরিয়ে দিল আরেক টা টোকেন বলল তিন তলায় গিয়ে বসেন, তিন তলায় গিয়ে দেখি তিল পরিমান যায়গা খালি নাই। যাই হোক ঠেকায় পড়লে সব কিছু সহ্য করতে হয় আর সেটাই বুঝিয়ে দিল ইন্ডিয়ান হাই কমিশন আমাকে। সেখানে ঘন্টা খানেক বসে থাকার পর একটা সময় আমার ডাক আসলো। এপ্লিকেশন আর অনান্য কাগজ পত্র চেক করার জন্য কাউন্টারে সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম, সে খানে বসে থাকা তিন জনের মধ্যে একজন প্রথমে আমার দেওয়া সব কাগজ পত্র কয়েক বার চেক করল তারপর আমার দিকে তাকিয়ে বলল। আপনে কি করেন ? বললাম সব লিখা আছে তারপর আমার কোম্পানির নাম বললাম আর পোষ্ট টা বললাম। আইডি কার্ড কই ? বের করে দেখালাম আর বললাম ওটার তো ফটোকপি দেওয়াই আছে, ও আচ্ছা । তারপর নজর দিল আমার কোম্পানীর কাছে ছুটির আবেদন পত্রের দিকে। আমায় বলল আপনে এই আবেদন তো কোম্পানীর প্যাডে হবে, কোম্পানী যে আপনার ছুটি মঞ্জুর করছে তার প্রমান কি ? আমি বললাম ছুটির আবেদন আমি ব্যক্তি হিসেবে করেছি, ব্যক্তিগত কাজে কোম্পানীর কাছে , কোম্পানীর প্যাড আমি কেন আমার ব্যাক্তিগত কাজে ব্যবহার করব? আর কোম্পানী যে আমার ছুটি মঞ্জুর করেছে তার প্রমান তো নিচে কোম্পানীর সীল ও এই কাজের ভারপ্রাপ্ত ব্যক্তির স্বাক্ষর দেওয়া আছে এবং কত দিন আমার ছুটি মঞ্জুর করা আছে তাও লিখা আছে। লোকটা আমায় উত্তর দিল এগুলা তো আপনি নিজেও করতে পারেন নিজে একটা সীল বানালেই তো হয়। আচ্ছা ঠিক আছে মানলাম। কিন্তু কোম্পানীর ইন্টারনাল ডকুমেন্টস কেন আমাকে দিবে? যেমন ব্যাংক সলভেন্সি, স্টেটম্যন্ট, টিন, ট্যক্স, ট্রেড লাইসেন্স ইত্যাদি এসব আমি বললাম। খানিকক্ষন চুপ থেকে এবার নজর দিল ব্যাংক স্টেটম্যন্ট, বলল কোম্পানীর একাউন্টে নূন্যতম ২০ হাজার টাকা থাকা লাগবে না হলে ভিসা দেওয়া যাবে না। আমি বললাম এটা তো আপনাদের কোন নিয়মের মধ্যে আমি দেখি নাই। আমি বললাম গত বার আমার ভিসা নেওয়ার সময় তো আমি ব্যাংক স্টেটম্যন্ট ই দিই নাই তা হলে আপনারা আমায় ভিসা দিলেন কেনো? আমার কাগজ পত্র জমা নিবে না বলে উনি শপথ করল মনে হয় তাই আমার হাতে কাগজপত্র গুলো ফেরত দিয়ে দিল।

ঘটনা টা এখানেই শেষ হতে পারত কিন্তু না……

মনের দুঃখে এখান থেকে সরে গিয়ে পানি খাইতে গেলাম ঐ রুমের এক চিপায়। দূর থেকে ওখানকার গ্রুপ ফোরের একজন গার্ড আমায় ফলো করছিল আমি খেয়াল নাই। আমার কাছে এসে বলল জমা নেয় নাই ক্যন ? তার সাথে মনের দুঃখ শেয়ার করলাম যদিও কিছু হইবো না। কিছুক্ষন পর আমাকে বলল, আপনে এখানে দাঁড়ান দেখি আমি কিছু করতে পারি কিনা, আচ্ছা ঠিক আছে বলে কয়েক মিনিট দাঁড়িয়ে থাকলাম, কিছুক্ষন পর ফিরে এসে আমায় বলল ২ হাজার টাকা দিলে ভিসা করে দেওয়া যাবে, আমি বললাম বেশি হয়ে যাচ্ছে পাঁচশ হলে আছি না হলে যাইগা। মুলামুলি করে একহাজার গিয়ে ঠেকল। টাকা অগ্রিম দিয়ে দিলাম, আর আমায় একপাশে বসিয়ে রাখল, কিছুক্ষন পর আমায় ডাক দিয়ে আগের কাউন্টারে পাঠাল গার্ড টা। আবার সেই প্যাচালওয়ালা লোক টা, আবার নতুন করে সব চেক করল, তারপর একটু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা ঐ গার্ড এর দিকে আড় চোখে তাকল, বুঝতে বাকী নেই এখানে খানিক ডাটা ট্রান্সপার হচ্চে। নিঃশব্দে সাইন আর সীল করে ঐ কাউন্টার থেকে কাগজ পত্র তুলে নিয়ে অন্য কাউন্টারে টাকা জমা দিয়ে রসিদ নিয়ে আমি বাড়ি ফিরে গেলাম। আর আজকে গিয়ে ভিসা লাগানো পাসপোর্ট টা নিয়ে আসলাম। এটাতো গেল আমার কাহিনী আজ আবার শুনলাম আরেকটা কাহিনী যদিও ব্যাপার টা ভিন্ন কিন্তু উদ্দেশ্য ছিল এটাই। অর্থাৎ বাংগালিরে মাইঙ্কার চিপায় ফেলে দিয়ে টাকা ইনকাম নতুন নিয়ম ফয়দা করল ইন্ডিয়ান হাই কমিশন। বাহ বেশ ! বাহ বেশ ! এছাড়া লক্ষ্য করলাম বাহিরে দায়িত্বরত পুলিশ এই কাজে তাদের কে খুব ভালো ভাবে আন্তরিকতার সাথে সহযোগিতা করছে। দুই তিনটা রিফিউজ হওয়া এপ্লিকেশন তারাও খুব আন্তরিকতার সাথে জোগাড় করছে এবং সমাধান করার জন্য অক্লান্ত শ্রম দিচ্ছে। তবে তাদের রেট একটু বেশি মনে হচ্ছে।

Advertisements