*আত্ম কথা……

ভাবনা গুলো ছড়িয়ে যাক সবার প্রাণে…

Category Archives: অর্থনীতি ও ব্যবসা বাণিজ্য

আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা পণ্য

Olefins Team

 

দেশের বাজারে আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সাউন্ড সিস্টেম ও নিরাপত্তা পণ্য বাজারজাত করছে অলেফিন্স ট্রেড কর্পোরেশন।

সাউন্ড সিস্টেমের মধ্যে আছে জার্মানির বোশ ও জাপানের টোয়া ব্র্যান্ডের সাউন্ড সিস্টেম, ডিজিটাল কনফারেন্স সিস্টেম, মেগা ফোন, মাইক সহ ইত্যাদি।

নিরাপত্তা পণ্যের মধ্যে আছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ওয়াকি টকি, অ্যাক্সেস কন্ট্রোল, মেটাল ডিটেক্টর ও ব্যাগেজ স্ক্যানার প্রভৃতি।

এছাড়াও আছে কমপ্লায়েন্স অডিট এর জন্য আই ওয়াশ স্টেশন। 

বিস্তারিত www.olefins.com.bd ফোন: ০১৯১৭৩০০৯৪০।

Advertisements

অর্থনীতি কি ?

অর্থনীতি বা ‌‌‌অর্থশাস্ত্র সামাজিক বিজ্ঞান-এর একটি শাখা যা পণ্য এবং কৃত্যের উত্‍পাদন, সরবরাহ, বিনিময়, বিতরণ এবং ভোগ নিয়ে আলোচনা করে থাকে৷ সম্পদ সীমিত কিন্তু চাহিদা অফুরন্ত এই মেৌলিক পরিপ্রেক্ষিতে সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যাবহার নিশ্চিত্‍ করা অর্থনীতির প্রধান উদ্দেশ্য৷ অর্থনীতি ইংরেজি ‘Economics’ শব্দের প্রতিশব্দ। Economics শব্দটি গ্রীক শব্দ ‘Oikonomia’ থেকে উদ্ভুত যার অর্থ গৃহস্থালী পরিচালনা। [এল.রবিন্স] এর প্রদত্ত সংজ্ঞাটি বেশীরভাগ আধুনিক অর্থনীতির ক্ষেত্রে প্রজোয্য। তিনি বলেন, “অর্থনীতি মানুষের অভাব ও বিকল্প ব্যাবহারযোগ্যো সীমিত সম্পদের সম্পর্ক বিষয়ক মানব আচরন নিয়ে আলোচনা করে।” এল.রবিন্সের সংজ্ঞাটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে এটি মানব জীবনের তিনটি মৌলিক বৈশিষ্টের উপর প্রতিষ্ঠিত, যথা অসীম অভাব, সীমিত সম্পদ ও বিকল্প ব্যাবহারযোগ্য সম্পদ। অর্থনীতির পরিধি সমুহ বিভিন্ন ভাগে বা শ্রেণীতে ভাগ করা যায়, যেমনঃ

আধুনিক অর্থনীতিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়, (১)ব্যাস্টিক অর্থনীতি ও (২)সামস্টিক অর্থনীতি৷ ব্যাস্টিক অর্থনীতি মূলত ব্যক্তি মানুষ অথবা ব্যবসায়ের চাহিদা ও যোগান নিয়ে আলোচনা করে থাকে৷ অন্যদিকে সামস্টিক অর্থনীতি একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জাতীয় আয়, কর্মসংস্থান, মুদ্রানীতি, ইত্যাদি বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করে৷ অন্য ভাবে বলা যায়যে, Micro Economics বা ব্যাষ্টিক অর্থনীতির লক্ষ্য হলো অর্থনীতির একটি বিশেষ অংশ বা একককে ব্যাক্তিগত দৃস্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করা এবং Macro Economics বা সামষ্টিক অর্থনীতি অর্থনীতির সামগ্রিক বিষয়াদি বিশ্লেষণ করে থাকে।

সূ্ত্রঃ উইকিপিডিয়া

প্রযুক্তি ও আজকের অর্থনীতি

আমাদের চারপাশে যা আছে  প্রত্যেক  কিছুর মধ্যে কোন না কোন ভাবে প্রযুক্তির ছোঁয়া আছে আর ঠিক সেই স্থানে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে অর্থনৈতিক সম্পৃকততা আছে। বর্তমান পরিস্থিতি তে বলা যায় অর্থনীতি কখন প্রযুক্তির উপর দন্ডায়মান আবার কখন ও প্রযুক্তি অর্থনীতির উপর দন্ডায়মান। অর্থনৈতিক ভাবে কোন দেশ যত বেশি সমৃদ্ব হবে প্রযুক্তির উন্নয়ন হবে দ্রুত। প্রযুক্তি একটি দেশের অর্থনীতিতে বহুলাংশে প্রভাব বিস্তার করে । প্রযুক্তির বিকাশ অর্থনীতিক উন্নয়নের সহায়ক। অর্থনীতিক ভাবে লাভবান না হলে প্রযুক্তির দ্রুত প্রসার হত না।

প্রযুক্তির ব্যবহার হলো এমন একটা কৌশল যার সাথে অর্থনৈতিক উন্নয়ন উৎপ্রেতভাবে জড়িত অর্থনৈতিক উন্নয়ন হলো এমন এক চলামান গতিধারা যা কতগুলো শক্তির সংযোগ আর এর মধ্যে একটি শক্তির সংযোগ হলো প্রযুক্তি । প্রযুক্তি আধুনিক যুগে বিপ্লব এনে দিয়েছে ।

আজকের এই সংকটময় অবস্থায় সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষৎ কি? কি করে সংকট থেকে মুক্ত হবে অর্থনীতির মন্দা ? ইত্যাদি তবে আমরা সবাই কম বেশি জানি এর জন্য দায়ী কারা কাদের অপকর্মের ফলাফল বিশ্ব বাসী আজ চিন্তিত। জৈবজ্বালানী নিশ্চিত করতে করতে একটা সময় জৈব খাদ্য আর পাওয়া যাচ্ছে না । বিশ্বের অর্থনীতির সংকট শুরু হয় অনেকটা ওয়াল স্ট্রিটের কাছ থেকে। তাদের শেয়ার বাজারে দর পতনের পর থেকে আমেরিকার অর্থনীতি আস্তে আস্তে অধপতনের দিকে হাত বাড়াতে লাগলো, একটা সময় এলো যার প্রাদুরভাব শুদু ঐ আঞ্চলে আর সীমাবদ্ধ থাকল না । মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রভাবে পুরো বিশ্বকে গ্রাস করার চেষ্টা করতে থাকলো যার ফলাফলে অন্নুনত দেশ গুলো সাময়িক ভাবে লাভবান হলেও একটা সময়ে তাদের ই বেশি ক্ষতি হ্বার সম্ভাবনা থাকে । তেলের দাম দিন দিন কমতে শুরু করেছে যার ফলে আমদের মত আমদানী বিমূখ রাষ্ট্র গুলোর নিত্য প্রয়োজনীয় পন্য দ্রব্যের আমদানী সহ নানা ধরনের খরচ কমছে । যার ফলে আমরা মন্দার মধ্য মোটামুটি সস্বি পাচ্ছি কিন্তু তা সাময়িক। অপর দিকে ধনী রাষ্ট্র গুলোর পরিকল্পনা তেমন কোন কাজে করছেনা। বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ন্রনের জন্য ধনী দেশ গুলো একত্রে কাজ করার কথা বলছেন, আর্থিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে পদক্ষেপ নিচ্ছেন, ধনী দেশ গুলোর আর্থিক নীতির পরিবর্তন আনা হচ্ছে । কোন ভাবে যেন সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না । ১৪ ই নভেম্বর থেকে ১৫ ই নভেম্বর পর্যন্ত বিশ্বের ২০ টি ধনী দেশগুলো বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের পথ খোঁজার জন্য ওয়াংশিটনের ম্যনহাটন থেকে সম্মেলন  শুরু করে এবং হোয়াইট হাওজের সম্মেলন শেষ হয়। সম্মেলন শুরু তে জর্জ বুশ বলেন বর্তমান এ বিশ্বের সবচেয়ে সংকট কাটিয়ে তুলতে হলে এখন ই পদক্ষেপ নিতে হবে এবং আরো বলেন এটি সবচেয়ে মারাত্নক সংকট বিগত ৮০ বছরের মধ্যে। সেই সাথে বর্তমান অর্থনীতির ভুল-ত্রুটি বের করে এর সমাধান করা। ৫টি গুরুত্বপুর্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয় ।

বিশ্বে এত বেশি মুদ্রাস্ফীতি দেখা যাচ্ছে যে অর্থনীতির অবস্থা আরো ভয়াবহ আকার দেখা দিচ্ছে এতে সবার আগে শিকার হল আফ্রিকার জিম্বাবুয়েতে। গত মার্চ এ মুদ্রাস্ফীতি পৌঁছায় ২২,০০,০০০ শতাংশে। এই সমস্যা সামাল দিতে জিম্বাবুয়ের কেন্দ্রীয় ব্যাংক পাঁচশ মিলিয়ন ডলার মূল্যের নোট বের করল। জিম্বাবুয়েতে এক মার্কিন ডলারে হয়েছে পঞ্চাশ মিলিয়ন জিম্বাবুয় ডলার।

অর্থনীতিক চ্যালেঞ্চ মোকাবেলা করার জন্য প্রত্যেক দেশ নতুন নতুন কৌশল প্রয়োগ করছে তাই আমাদের অর্থনীতি স্বাভাবিক রাখতে অনেক বড় বড় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে । আই এম এফ প্রতিনিধি দল পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশের ছোট অর্থনীতির জন্য এত বেশী ব্যাংকের প্রয়োজন নেই এবং সমস্যা  কবলিত ব্যাংক গুলোকে একত্রে কাজ করার  জন্য ও তারা পরামর্শ দিয়েছে। আমাদের অর্থ উপদেষ্টা এ পরামর্শের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেছেন, ভবিষ্যতে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঘোষনা করে দিলো আগামী ২০১১ সালের মধ্যে সব ব্যাংকের মূলধন ৪০০ কোটি টাকা করার জন্য। যেসব ব্যাংক এই সময়ের মধ্যে মূলধন ৪০০ কোটি টাকা করতে পারবে না সেগুলোকে একীভূত করা হবে । এছাড়া ও  আই এম এফ পরামর্শ দিল বেসরকারি ক্ষাতে ঋণ প্রবাহ কমানোর।

আমাদের এই দেশ অফুরন্ত সম্ভাবনার। উন্নত বিশ্বর মত সম্পদ সম্ভাবনার  মত আরো অনেক কিছুই আছে হোক না তা পরিমানে অল্প। শুধু  সঠিক পরিকল্পনার আর প্রযুক্তি জ্ঞান দ্বারা আমরা আমাদের সম্পদ ও সম্ভাবনা কে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক ভাবে সাফল্য অর্জন করে বিশ্ব দরবারে মাথা উছুঁ করতে পারি এবং এই পুরো দায়িত্ব টা পালন করতে হবে একজন দেশপ্রেমিক কে ।

আমরা লক্ষ্য করি যে, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পন্যের বিশাল চাহিদা থাকা সত্ত্বেও সে বাজারে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হচ্ছে বাংলাদেশ কারন বাংলাদেশের কৃষি খাতে সচেতনতার অভাব , সনাতন পদ্ধতিতে উৎপাদনের কারনে ই ইউ বাজারে প্রবেশ করা কঠিন হয়ে পড়ছে । এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কৃষি ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে কৃষি জাত পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি করে প্রচুর বৈদাশিক মুনাফা অর্জন করতে পারে । এই বৈদাশিক মুদ্রা কর্মসংস্থানে বিনিয়োগ করে বেকার সমস্য নিরসন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব ।

আমাদের কৃষি ক্ষেত্রে প্রযুক্তির বহুমূখী ব্যবহার ছড়িয়ে দিতে হবে। কৃষি পন্য উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারজাত করা পর্যন্ত আধুনিক কৌশল প্রয়োগ করতে হবে। দরকার হলে কৃষি উপকরনের মধ্যে ভূর্তুকি বাড়ানো যেতে পারে । কৃষির পাশাপাশি আমরা যদি আমাদের শিল্প টা আরো শক্তিশালী করতে পারি প্রযুক্তির জ্ঞান ব্যবহার করে তাহলে আমদের অর্থনীতি একটা ভারসাম্য অবস্থায় আসবে । দেশে কোন বেকার থাকবে না, দেশে সুষ্ঠ অবস্থা বিরাজ করবে ইত্যাদি ইত্যাদি ।

দেশের প্রত্তন্ত অঞ্চলে কারিগরি শিক্ষার প্রসার ও প্রয়োগ বাড়াতে হবে। দেশে ই-গর্ভারনেস যত দ্রুত সম্ভব পুরো দমে চালু করতে হবে। স্কুল পর্যায় থেকে কম্পিউটার ব্যবহার করার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। শহর কেন্দ্রীকতা দূর করতে হবে ।

বৈশিক মন্দা নিয়ে আমরা যতটা না চিন্তিত তার চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন দেশের রাজনৈতিক অবস্থা নিয়ে।বর্তমান দেশে আছে একটি অনির্বাচিত সরকার। আর অনির্বাচিত সরকার এর পক্ষে কোন দীর্ঘকালীন পরিকল্পনা করা বা বস্তাবায়ন করা সম্ভব না। জনস্মর্থনহীন বা গনভিত্তিহীন একটি সরকারের পক্ষে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের মোকাবিলা করা অতি দুরহ। অনতিবিলম্বে নির্বাচিত গনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা অত্যাবশ্যক । অন্যথায় রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আর বৈশ্বিক মন্দায় মিলিত ধারায় বিপন্ন হতে পারে আমাদের অস্তিত্ব।

বিঃ দ্রঃ এই লিখাটি আমাদের প্রযুক্তি ফোরামের জন্য লেখেছিলাম ।