*আত্ম কথা……

ভাবনা গুলো ছড়িয়ে যাক সবার প্রাণে…

আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা পণ্য

Olefins Team

 

দেশের বাজারে আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সাউন্ড সিস্টেম ও নিরাপত্তা পণ্য বাজারজাত করছে অলেফিন্স ট্রেড কর্পোরেশন।

সাউন্ড সিস্টেমের মধ্যে আছে জার্মানির বোশ ও জাপানের টোয়া ব্র্যান্ডের সাউন্ড সিস্টেম, ডিজিটাল কনফারেন্স সিস্টেম, মেগা ফোন, মাইক সহ ইত্যাদি।

নিরাপত্তা পণ্যের মধ্যে আছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ওয়াকি টকি, অ্যাক্সেস কন্ট্রোল, মেটাল ডিটেক্টর ও ব্যাগেজ স্ক্যানার প্রভৃতি।

এছাড়াও আছে কমপ্লায়েন্স অডিট এর জন্য আই ওয়াশ স্টেশন। 

বিস্তারিত www.olefins.com.bd ফোন: ০১৯১৭৩০০৯৪০।

Advertisements

পরিপূর্ণ পর্দা না করার পেছনে মুসলিম নারীদের ১০টি অজুহাতের উত্তর!

কেন পর্দা করেন না? প্রশ্নটি করা হয়েছিল সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার নারীদের কাছে। যেসব কারণ তারা দেখিয়েছেন, সেগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দশটি কারণ আমরা চিহ্নিত করেছি। চেষ্টা করেছি এগুলোর উত্তর খোঁজার। কারণগুলো নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা করে আমরা খুঁজে পেয়েছি এসব অজুহাতগুলোর দুর্বলতা। প্রিয় মুসলিম বোন, আমাদের এই গবেষণা-পুস্তিকায় আমরা গুরুত্ব অনুসারে সেসব কারণ এবং সংক্ষেপে এই কারণগুলোর ব্যাপারে আমাদের আলোচনা উপস্থাপন করেছি। যারা পরিপূর্ণ পর্দার ব্যাপারে আগ্রহী নন, কিংবা পর্দার গুরুত্ব বোঝা সত্ত্বেও বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক কারণে পর্দা শুরু করতে পারছেন না আশা করি সবার জন্যই এই লেখাটি কাজে দেবে।

 

parda

অজুহাত ১ : “হিজাবের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আমি এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নই।”

১. এই অজুহাত যিনি দেখান, তাঁকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় আপনি কি ইসলামের সত্যতার ব্যাপারে পুরোপুরি নিশ্চিত? তাহলে স্বাভাবিকভাবেই এর উত্তর হবে, “হ্যাঁ”। কারণ, তিনি এই ঘোষণা দিয়েছেন যে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য উপাসনার যোগ্য নয়। এর মানে তিনি ইসলামিক বিশ্বাসের ব্যাপারে পুরোপুরি নিশ্চিত। এরপর তিনি যখন বলেন, “মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ” অর্থাৎ মুহাম্মাদ আল্লাহর বার্তাবাহক-রাসূল। এ কথার মধ্য দিয়ে তিনি ইসলামিক শারীআহ ও এর বিধিবিধানের ব্যাপারেও সম্পূর্ণরূপে বিশ্বাস স্থাপন করেন। অতএব বলা যায়, এই কালিমা যিনি ঘোষণা করেছেন দ্বীন বা জীবনব্যবস্থা হিসেবে তিনি ইসলামের সত্যতার ব্যাপারে পুরোপুরি নিশ্চিত। তিনি বোঝেন যে ইসলামিক জীবনব্যবস্থাই সেই জীবনব্যবস্থা যার অনুসরণে একজন মানুষের জীবনের সকল কাজ সম্পন্ন হওয়া উচিত।

২. হিজাব কি ইসলামিক বিধিবিধান তথা শারীআহর অংশ? আর এটা কি নারীদের জন্য খুব দরকার?

আমাদের এই বোনটি যদি নিয়্যাতের ব্যাপারে সৎ ও আন্তরিক হন এবং সত্য জানার উদ্দেশ্যে বিষয়টি বিবেচনা করেন, তাহলেই বুঝতে পারবেন যে হিজাব বা পরিপূর্ণ পর্দা অবশ্যই ইসলামিক শারীআহর অংশ এবং নারীদের জন্য এটা অবশ্যপালনীয়। স্রষ্টা, পালনকর্তা, প্রভু হিসেবে যে-আল্লাহকে তিনি মেনে নিয়েছেন, সেই আল্লাহই তাঁর ঐশী গ্রন্থ কুরআনে হিজাবের আদেশ দিয়েছেন। যে-নাবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কথা তিনি সত্য বলে স্বীকার করেন, সেই নাবী তাঁর সুন্নাহয় নারীদের হিজাবের নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ বলেছেন, “বিশ্বাসী মুসলিম নারীদের বলবে, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে; তাদের সতীত্ব রক্ষা করে; (মুখমণ্ডল, হাতের কব্জি) বাদে তাদের দেহের অন্যান্য অংশ উন্মুক্ত না করে; চাদর দিয়ে সারা শরীর মুড়ে নেয় এবং নিজেদের স্বামী, বাবা, শ্বশুর, ছেলে, সৎ ছেলে, ভাই, ভাইয়ের ছেলে, বোনের ছেলে, মুসলিম নারী, মালিকানাধীন দাসী, অধীনস্থ বৃদ্ধ এবং নাবালক শিশুদের ছাড়া অন্যদের কাছে নিজেদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে।” [সূরা আন-নূর, ২৪:৩১]

“হে নাবী! তুমি তোমার স্ত্রী-কন্যাদের ও বিশ্বাসী মুসলিম পুরুষদের স্ত্রীদের বলো, তারা যেন নিজেদের গায়ে আবরণ টেনে দেয়। এতে তারা সম্ভ্রান্ত মহিলা হিসেবে পরিচিতি পাবে, ফলে তাদের উত্যক্ত হওয়ার আশংকা কম থাকবে।” [সূরা আল-আহযাব, ৩৩:৫৯]

সংক্ষেপে : আমাদের এই বোন যদি প্রকৃত অর্থেই ইসলামের উপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখেন, দ্বীন বা জীবন ব্যবস্থা হিসেবে ইসলামকে আদর্শ মানেন, তাহলে তিনি কীভবে ইসলামের বিধিবিধানের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারছেন না?

অজুহাত ২ : “ইসলামিক পোশাকের ব্যাপারে আমার কোনো আপত্তি নেই। তবে আমার বাবা-মা আমাকে হিজাব পড়তে বারণ করেন। বাবা-মার নিষেধাজ্ঞা না মানলে আমি কি জাহান্নামে যাব না?”

এই অজুহাতের উত্তর বহু আগেই দিয়ে গেছেন আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ মানুষ নাবী মুহাম্মাদ (তাঁর উপর শান্তি বর্ষিত হোক)। প্রজ্ঞাগুণে অল্প কয়েকটি কথায় তিনি এর উত্তরে বলেছেন, “যে কাজে স্রষ্টার অবাধ্যতা করা হয়, সেই কাজে স্রষ্টা বাদে অন্য কারও বাধ্য হওয়া যাবে না।” (আহমাদ : ১০৪১)

সন্দেহ নেই, ইসলামে মা-বাবার মর্যাদা অনেক ঊর্ধ্বে। বিশেষ করে মাকে দেওয়া হয়েছে স্বতন্ত্র মর্যাদা। আল্লাহর ইবাদাহ ও তাওহীদের মতো ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটো বিষয়ের সঙ্গে একই আয়াতে মা-বাবার সাথে ভালো আচরণের কথা বলা হয়েছে। আল্লাহ বলেছেন, “আল্লাহর উপাসনা করো, তাঁর সাথে কাউকে শরিক করো না। আর মা-বাবার সাথে ভালো আচরণ করো।” [সূরাহ আন-নিসা, ৪:৩৬]

তাই সকল ক্ষেত্রেই মা-বাবার বাধ্য থাকতে হবে, কেবল একটি মাত্র ক্ষেত্র ছাড়া। সেটা হচ্ছে মা-বাবা যদি কখনো এমন কোনো কাজ করতে বলেন, যেটা আল্লাহর বিধিনিষেধের নির্ধারিত সীমালঙ্ঘন করে। আল্লাহ বলেছেন, “কিন্তু তারা যদি এই চেষ্টা করে, যাতে তুমি আমার সাথে কোনো কিছুকে শরীক করো, যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তাহলে তুমি তাদের আনুগত্য করবে না…” [কুরআন ৩১:১৫]

অন্যায় কাজে তাদের অবাধ্য হওয়ার মানে এই না যে, আমরা তাদের সাথে ভালো আচরণ করব না, তাদের যত্ন নেব না। কারণ, এই একই আয়াতের পরের অংশে আল্লাহ বলে দিয়েছেন, “তবে পার্থিব জীবনে তাদের সাথে ভালো আচরণ করবে।”

সংক্ষেপে : মা-বাবাকে উপযুক্ত সম্মান করবেন, তাদের সাথে ভালো আচরণ করবেন; কিন্তু তাই বলে এমন কোনো কাজে তাদের বাধ্য হওয়া যাবে না, যে কাজে আল্লাহর অবাধ্যতা করতে হয়।

অজুহাত ৩ : “আসলে আমি যাদের সাথে যে সমাজে চলাফেরা করি, সেখানে আমার বর্তমান ড্রেসআপ বাদ দিয়ে ইসলামিক পোশাক মেনে চলা সম্ভব না।”

এ ধরনের কথার পেছনে দুটো কারণ থাকতে পারে: হিজাবের ব্যাপারে তিনি হয়তো আন্তরিক ও সৎ কিন্তু পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় হিজাব নিয়ে দোনোমনায় ভুগছেন। আবার এমনও হতে পারে, হালফ্যাশনের সাথে তাল মেলাতে যেয়ে তিনি শুধু মাথায় রংচঙা স্কার্ফ পড়েন; পরিপূর্ণ পর্দার ব্যাপারে মোটেও আন্তরিক নন। পারিপার্শ্বিক অবস্থান ও মানসম্মানের ভয়ে যে বোনটি পর্দা করতে পারছেন না, তাঁর প্রতি আমাদের পরামর্শ: বোন, আপনি কি এটা জানেন না যে, পরিপূর্ণ পর্দার শর্ত পূরণ না করে কোনো অবস্থাতেই একজন নারীর ঘর থেকে—যে কোনো প্রয়োজনেই হোক—বের হওয়ার অনুমতি আল্লাহ দেননি?

প্রতিটা মুসলিম নারীরই দায়িত্ব ইসলাম তাঁদের কী মর্যাদা দিয়েছে, ইসলাম তাঁদের কী করতে বলেছে সেগুলো জানা; সর্বোপরি ইসলাম সম্পর্কে ন্যূনতম বেসিক জ্ঞান অর্জন করা। প্রচুর সময় ও শ্রম ব্যয় করে আপনি কত কিছু শিখে নিচ্ছেন, কিন্তু যে জ্ঞান আপনাকে আল্লাহর শাস্তি থেকে নিরাপদ রাখবে, মৃত্যুর পর আল্লাহর ক্রোধ থেকে আপনাকে রক্ষা করবে, সেই জ্ঞান অর্জনের ব্যাপারেই আপনার যত অবহেলা?

আল্লাহ কি বলেননি, “যদি তোমাদের জানা না থাকে, তাহলে জ্ঞানী ব্যক্তিদের জিজ্ঞেস করো।” [সূরা আন-নাহ্ল, ১৬:৪৩]

কাজেই পরিপূর্ণ পর্দার জন্য কী কী প্রয়োজন সেটা শিখুন। কোনো কাজে বা বিশেষ প্রয়োজনে যদি বাইরে যেতে হয়, তাহলে অবশ্যই যাবেন। তবে সঠিকভাবে পরিপূর্ণ পর্দা করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে নিয়ে বের হবেন। শয়তানের কূটচালকে ধ্বংসের নিমিত্তে এগিয়ে যাবেন। কারণ যে প্রয়োজনে আপনি বের হচ্ছেন, তার চেয়ে নিজের সৌন্দর্য প্রদর্শনের ফলে সমাজে সেটা যে পরিমাণ দূষণ ছড়াবে তা অনেক অনেক বেশি মারাত্মক।

বোন, আপনি যদি আপনার নিয়্যাতের ব্যাপারে নিষ্ঠাবান হন, এবং পরিপূর্ণ পর্দার ব্যাপারে আসলেই আন্তরিক হন, তাহলে মানসিকভাবে দৃঢ় হন। একবার যখন ইসলাম মানা শুরু করবেন তখন দেখবেন আপনাকে সাহায্য করার জন্য হাজারো হাত এগিয়ে আসছে। আপনার মন যদি ইসলামের কোনো বিধানের ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়, তাহলে আল্লাহ আপনার কাজ সহজ করে দেবেন। কারণ তিনিই তো বলেছেন, “আর যে আল্লাহকে ভয় করে তিনি তার জন্য সংকট থেকে বের হওয়ার পথ করে দেবেন। আর তাকে এমন জায়গা থেকে জীবিকার ব্যবস্থা করে দেবেন যা সে কখনো কল্পনাও করতে পারে না।” [সূরা আত-তালাক, ৬৫:২-৩]

অন্যদিকে আমাদের যে বোনটি হালফ্যাশনের জালে আটকা পড়েছেন তার জন্য আমাদের পরামর্শ: সম্মান ও মর্যাদা দেওয়ার মালিক আল্লাহ তাআলা। পোশাকের আভিজাত্য, হাল ফ্যাশনের সাথে তাল মিলিয়ে চলা এগুলো কারও সম্মান ও মর্যাদা নির্ধারণ করতে পারে না। কেবল আল্লাহ ও তাঁর বার্তাবাহকের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি পূর্ণ আনুগত্য এবং আল্লাহর শারীআহর বিধিবিধান মেনে পরিপূর্ণ পর্দার মাধ্যমেই নিজের আত্ম-মর্যাদা ও সম্মান নির্ধারিত হয়। শুনুন এ ব্যাপারে আল্লাহ কী বলছেন, “তোমাদের মধ্যে যে সবচেয়ে বেশি ধার্মিক, আল্লাহর কাছে সে-ই সবচেয়ে বেশি মর্যাদার অধিকারী।” [সূরা আল-হুজুরাত, ৪৯:১৩]

কাজেই সেই দিনকে ভয় করুন, যেদিন আজকের কথিত প্রগতিশীল, মর্যাদাসম্পন্ন নারীদের ডেকে আল্লাহ বলবেন, “আজকের এই শাস্তি উপভোগ করো! পৃথিবীতে তো নিজেকে খুব শক্তিশালী সম্ভ্রান্ত মনে করতে! এটাই সেই শাস্তি, যে ব্যাপারে তোমরা সন্দেহ করতে।” [সূরা আদ-দুখান, ৪৯:৫০]

সংক্ষেপে : আল্লাহর বিধিনিষেধ অমান্য করে, তাঁর ক্রোধ অর্জন করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব না। সম্ভব না জান্নাতে পৌঁছা। পৃথিবীতে কে আপনাকে সম্মান দিল, আর কে দিল না, কোন পোশাকে লোকে আপনাকে সুন্দর বলল, আর কে বলল না, এগুলো মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন। হিজাব বা পরিপূর্ণ পর্দা করুন কেবল আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য, আল্লাহর কাছে সম্মানিত হওয়ার জন্য।

অজুহাত ৪ : “এত গরম আমাদের দেশে, একদমই সহ্য করতে পারি না। এত গরমে কীভাবে হিজাব করব?”

গরমের তীব্রতা কত মারাত্মক হতে পারে এ ব্যাপারে আল্লাহ বলছেন, “ওদের বলো, জাহান্নামের আগুন আরও বেশি গরম; যদি তারা বুঝত!” [সূরা আত-তাওবাহ, ৯:৮১]

নরকের আগুনের তীব্রতার সাথে এই দুনিয়ার তাপমাত্রার তুলনা কীভাবে সম্ভব! বোন, জেনে রাখুন—শয়তান আসলে আপনাকে এমন এক ফাঁদে ফেলেছে, এমন এক জাল বুনেছে আপনার সামনে, যে জাল ছিঁড়ে গেলে পৃথিবীর এই সামান্য উত্তাপ থেকে আপনি গিয়ে পড়বেন জাহান্নামের উত্তপ্ত আগুনে। শয়তানের এই ফাঁদ থেকে বেড়িয়ে আসুন। সূর্যের উত্তাপকে নিগ্রহ না ভেবে মহান আল্লাহর একটা অনুগ্রহ হিসেবে ভাবুন। কেননা সূর্যের এই উত্তাপ আপনাকে সেই সত্যকে মনে করিয়ে দেয় যে, জাহান্নামের আগুনের তীব্রতা এর চেয়ে আরও কত লক্ষ কোটি গুণ বেশি! যে গরম আপনি এখন সহ্য করছেন, জাহান্নামের উত্তাপের তুলনায় তা কিছুই নয়। তাই পার্থিব আয়েশ ত্যাগ করে ফিরে আসুন আল্লাহর আনুগত্যের ছায়াতলে। গায়ে তুলে নিন নিরাপত্তার আবরণ। নিজেকে বাঁচান জাহান্নামের কঠিন শাস্তি থেকে। যে শাস্তির ব্যাপারে আল্লাহ বলেছেন, “সেখানে তারা কোনো ঠাণ্ডা বস্তুর স্পর্শ পাবে না; ফুটন্ত ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি ছাড়া অন্য কোনো পানীয়ের স্বাদ পাবে না।” [সূরা আন-নাবা, ৭৮:২৪-২৫]

সংক্ষেপে : জান্নাতের চারপাশ ঘিরে আছে কষ্ট, সংগ্রাম আর কঠোর পরিশ্রম, অন্যদিকে জাহান্নামের চারপাশে ছড়ানো আছে কামনা-বাসনার প্রলোভন। সবচেয়ে মহামূল্যবান পুরস্কার পেতে একটু ঘাম না ঝরালে কি হয়?

অজুহাত ৫ : “আমার ভয় হয়, আমি হয়তো আজকে হিজাব করে কাল আবার ছেড়ে দেব। কারণ, আমি অনেককেই দেখেছি হিজাব করে আবার ছেড়ে দিতে!”

এই বোনকে আমি বলব: সবাই যদি আপনার এই যুক্তি প্রয়োগ করে তাহলে হয়তো এরা এভাবে আস্তে আস্তে পুরো দ্বীনকেই ছেড়ে দেবে।

কারণ কেউ হয়তো ভবিষ্যতে সালাত ছেড়ে দেওয়ার ভয়ে সালাত ধরবেই না। বুড়ো বয়সে রামাদানের সিয়াম পালন করতে পারব না, এই ভয়ে তারা হয়তো যুবতী বয়সেও সিয়াম পালন করবে না। আপনি কি টের পাচ্ছেন না, শয়তান কীভাবে আপনাকে তার ফাঁদে ফেলছে। সঠিক পথ থেকে আপনাকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে। আপনার পালন করা কাজটি যত ছোটই হোক না কেন—হোক সেটা নফল কিংবা সুন্নাহ—কাজটা যদি আপনি সবসময় নিয়মিত করেন, তাহলে আল্লাহ তাতেই সবচেয়ে বেশি খুশি হন। সেক্ষেত্রে হিজাবের মতো অবশ্যপালনীয় একটা কাজে আল্লাহ কতটা খুশি হবেন, ভাবা যায়? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কাজ যতই ছোট হোক, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমাল সেটাই, যে কাজটা কেউ নিয়মিত করে।” [বুখারী, ১১/১৯৪]

যে মানুষগুলো একসময় হিজাব করা ছেড়ে দিয়েছে, আপনি কি কখনো তাদের এই ছেড়ে দেওয়ার কারণ অনুসন্ধান করেছেন, যাতে করে আপনি এই সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে পারেন? যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনি সত্যকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরতে পারছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত কেন আপনি এই সত্য পথনির্দেশের ব্যাপারে পরিপূর্ণ আস্থা অর্জনের কারণ ও যুক্তিগুলো খুঁজে দেখছেন না?

সত্য ও সঠিক পথের উপর অবিচল থাকার জন্য আমরা আল্লাহর কাছে দুআ করতে পারি। যাতে করে আল্লাহর দ্বীন তথা জীবনব্যবস্থার সাথে আপনার সুদৃঢ় বন্ধন গড়ে ওঠে। সালাতে আমরা বেশি বেশি দুআ জানাতে পারি, কারণ আল্লাহ বলেছেন, “ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে (আল্লাহর) কাছে সাহায্য চাও।” [সূরা আল-বাকারাহ, ২:৪৫]

সঠিক পথের উপর অবিচল থাকার আরেকটা উপায় হচ্ছে ইসলামিক বিধিবিধানগুলো সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা; পূর্ণাঙ্গভাবে সেগুলো মেনে চলা। এর মধ্যে হিজাব বা পরিপূর্ণ পর্দা অন্যতম। আল্লাহ বলেছেন, “তাদের যা বলা হয়েছে, তারা যদি সেটা মেনে চলত, তাহলে এটা তাদের জন্যই ভালো হতো। উপরন্তু এটা তাদের ঈমানকে আরও মজবুত করত।” [সূরা আন-নিসা, ৪:৬৬]

সংক্ষেপে : সঠিক পথ ও সত্যের উপর অবিচল থাকার জন্য অন্যতম প্রধান যে দুটো উপায় আছে, আপনি যদি সে দুটো উপায় অবলম্বন করেন, তাহলেই আপনি পাবেন ঈমানের সুমিষ্ট স্বাদ। এরপর আপনার মনে আর কখনোই একে ছাড়ার ইচ্ছা জাগবে না।

অজুহাত ৬ : “হিজাব করলে কেউ আমাকে বিয়ে করবে না। তাই, বিয়ে করার আগ পর্যন্ত আমি হিজাব করব না।”

কোনো স্বামী যদি আপনাকে পর্দাহীন রাখতে চায়, জনসম্মুখে আপনার সৌন্দর্য প্রদর্শনে তার কোনো আপত্তি না থাকে, তাহলে সে আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ করল। সত্য কথা বলতে, এ ধরনের পুরুষ আপনার স্বামী হওয়ারই যোগ্য নয়। আল্লাহ আপনাকে যেটা করতে বলেছেন, সেই বিধান রক্ষায় যার কোনো মাথা ব্যাথা নেই, সে লোক আপনার জান্নাতে প্রবেশের বাধা বৈ আর কিছু নয়। বরং এ ধরনের স্বামীরা আপনার জাহান্নামে যাওয়ার পথকেই আরও সুগম করবে। আল্লাহর অবাধ্যতায় যে ঘরের বুনিয়াদ গড়ে ওঠে, যে পরিবারে অহরহ এমন কাজ করা হয় যাতে আল্লাহ ক্রোধান্বিত হন, এমন ঘরে পার্থিব জীবনে সবসময় দুঃখকষ্ট ও দুর্দশা লেগেই থাকবে। আর পরকালের সীমাহীন দুর্ভোগ তো আছেই।

কারণ আল্লাহ বলেছেন, “যে আমার স্মরণ থেকে বিমুখ হবে (অর্থাৎ এই কুরআনে বিশ্বাস করবে না, কিংবা এই কুরআনের বিধিনিষেধ মেনে চলবে না) তার জন্য রয়েছে কষ্টের জীবন; আর পুনরুত্থানের দিন আমি তাকে অন্ধ অবস্থায় ওঠাব।” [সূরাহ তাহা, ২০:১২৪]

বিয়ে আল্লাহর এক বিশেষ অনুগ্রহ। কার সাথে কার বিয়ে হবে এটা আল্লাহর ইচ্ছার অধীন। আপনি কতজন নারীকে দেখেছেন যারা হিজাব করছেন অথচ তাদের বিয়ে হয়নি? অন্যদকে কতজন নারীকে দেখেছেন যারা হিজাব করে না এবং অবিবাহিত?

আপনি যদি বলেন যে হিজাব না করার পেছনে মূল কারণ বিয়ের মতো পবিত্র একটা বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া, তাহলে একটি কথা জেনে রাখুন, অপবিত্র বা খারাপ কাজের মাধ্যমে ইসলামে কখনো ভালো কিছু অর্জন করা যায় না। উদ্দেশ্য যদি আসলেই মহৎ কিছু হয়, তাহলে সেটা অবশ্যই বৈধ ও পবিত্র উপায়ে অর্জন করতে হবে।

সংক্ষেপে : যে বিয়ের ভিত্তি গড়ে উঠেছে পাপ ও মন্দ কাজের উপর তাতে আল্লাহর কোনো বারাকাহ থাকবে না। কাজেই এই অজুহাতে পরিপূর্ণ পর্দা থেকে বিরত থাকা মোটেও বুদ্ধিমতী নারীর কাজ নয়।

অজুহাত ৭ : “আমি হিজাব করি না, কারণ আল্লাহই তো বলেছেন, আর তোমার প্রভুর অনুগ্রহের কথা প্রকাশ্যে বলো।”

“সুন্দর রেশমি চুল আর আকর্ষণীয় যে সৌন্দর্য দিয়ে আল্লাহ আমাকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছেন আমি সেটা কীভাবে আবৃত রাখি?” দেখা যাচ্ছে আমাদের এ বোনটি সেসব ক্ষেত্রে আল্লাহর কিতবের অনুসরণ করছেন, যেসব ক্ষেত্রে এই কিতাবের বিধিবিধান তাঁর ব্যক্তিগত কামনা ও বুঝের সাথে খাপ খায়। কিন্তু যখন কিতাবের বিধানগুলো তাঁর মনের সাথে মেলে না, তখন তিনি সেগুলো অনুসরণ করেন না। কারণ, যদি তা-ই না হতো, তাহলে তিনি এই আয়াতটি কেন অনুসরণ করছেন না:

“সাধারণত যেটুকু প্রকাশ পায়, তা ছাড়া তাদের অন্যান্য সৌন্দর্য যেন প্রকাশ না করে;” [সূরাহ আন-নূর, ২৪:৩১] এবং, “তোমার স্ত্রী-কন্যা এবং অন্যান্য মুসলিমদের স্ত্রী-কন্যাদের বলো তারা যেন তাদের শরীরের উপর চাদর টেনে দেয়।” [সূরাহ আল-আহযাব, ৩৩:৫৯]

এই অজুহাত যিনি দেখান, তিনি মূলত আল্লাহ যেটা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছেন, সেটাই করার বাহানা খুঁজছেন। এভাবে তিনি আল্লাহর দেওয়া বিধিবিধান পাল্টে নিজেই নিজের জন্য আইন প্রণয়ন করছেন যেন। তার এ আইনের নাম সৌন্দর্য-প্রকাশ (আত-তাবাররুজ) ও অনাবৃতকরণ (আস-সুফূর)। আসলে শারীআহর বিধিনিষেধ মানতে আগ্রহের অভাবই এ ধরনের যুক্তির মূল কারণ।

সংক্ষেপে : আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের উপর সবচেয়ে বড় অনুগ্রহ বা নেয়ামত হচ্ছে ঈমান (বিশ্বাস) ও হিদায়াহ (সঠিক পথের নির্দেশ)। এই ঈমান ও হিদায়াতের একটি বহিপ্রকাশ হচ্ছে হিজাব। এত বড় একটি নিআমাহর কল্যাণ ও আশীর্বাদ কেন আপনার মধ্যে ফুটিয়ে তুলবেন না? কেন আপনি এমন নিরাপত্তা মুফতে গ্রহণ করবেন না?

অজুহাত ৮ : “আমি জানি পরিপূর্ণ পর্দা বা হিজাব করা নারীদের জন্য ফরজ, তবে আল্লাহ যখন আমাকে হেদায়েত করবে আমি তখনই হিজাব করব।”

এই বোনের কাছে আমাদের প্রশ্ন আল্লাহর হিদায়াহ পাওয়ার জন্য তিনি কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন? বা এজন্য তিনি কী পরিকল্পনা করেছেন? প্রত্যেকটা কাজ হওয়ার পেছনে আল্লাহ তাঁর প্রজ্ঞাগুণে কিছু কারণ বা মাধ্যম ঠিক করে রেখেছেন। একারণেই একজন অসুস্থ ব্যক্তিকে সুস্থ হওয়ার জন্য ওষুধ খেতে হয়। একজন পর্যটককে ঘুরে বেড়ানোর জন্য গাড়িতে চড়তে হয়। এ ধরনের আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে। হিদায়াহ বা সঠিক পথের দিকনির্দেশনা পাওয়ার জন্য আমাদের এই বোন কতটুকু চেষ্টা করেছেন? তিনি কি ইসলামিক জ্ঞান অর্জনের জন্য কোনো পদক্ষেপ নিয়েছেন?

একইসাথে আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে কি এই দুআ করেছেন, “আমাদের পরিচালিত করুন সঠিক পথে।” [সূরা আল-ফাতিহা, ১:৬]

আল্লাহর হিদায়াহ লাভের জন্য যারা আমাদের এই বোনটিকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করতে পারেন, তারা হলেন অন্যান্য ধার্মিক মুসলিম নারীগণ। যতক্ষণ না তিনি দ্বীনের উপর অটল হচ্ছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত অন্যান্যরা তাকে বারবার আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দেবেন। দৃঢ় বিশ্বাসী এসব মুসলিমাদের সান্নিধ্যে আমাদের এই বোনটির তাকওয়া বা আল্লাহর প্রতি সচেতনতা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাবে। আর এভাবেই তিনি ধীরে ধীরে আল্লাহর বিধিবিধানের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করবেন। অর্জন করবেন আল্লাহর সন্তুষ্টি।

সংক্ষেপে : হিদায়াহ লাভের ব্যাপারে আমাদের এই বোনটি যদি সত্যিই আন্তরিক হন, তাহলে তিনি নিজেই সচেষ্ট হবেন, কী করলে তিনি সঠিক পথনির্দেশ পাবেন।

অজুহাত ৯ : “আমার বয়স অনেক কম, হিজাব করার সময় আমার হয়নি এখনো।” বা “বয়স হলে হজ করার পর পর্দা করব”

বোন আমার, মৃত্যুর দূত আপনার আশেপাশেই ঘুরছে। যেকোনো সময়ই সে আপনার প্রাণ হরণ করে নেবে। শুধু আল্লাহর নির্দেশের অপেক্ষা। আল্লাহ বলেছেন, “যখন তাদের মৃত্যুর সময় আসবে, তখন তারা এক মুহূর্তও এদিক সেদিক করতে পারবে না।” [সূরাহ আরাফ, ৭:৩৪]

আপনার বয়স কম না বেশি সে জন্য মৃত্যু অপেক্ষা করে না। হয়তো এমন সময় আপনার মৃত্যু এসে পড়বে, যখন কিনা আপনি ডুবে আছেন পাপাচার, অবাধ্যতা ও আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণে। হয়তো এমন সময় আপনার মৃত্যু ঘণ্টা বেজে উঠবে যখন আপনি পরিপূর্ণ পর্দা ছাড়াই বাইরে বের হয়েছেন কিংবা গায়ে জড়িয়েছেন আপত্তিকর কোনো পোশাক।

বোন আমার, অন্যায় ও পাপকাজের রেসে না-নেমে, যারা আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে দ্রুতলয়ে তাঁর পানে অগ্রসর হচ্ছে আপনি তাদের সাথে প্রতিযোগিতায় নামুন। কারণ, আল্লাহ বলেছেন, “তোমরা তোমাদের প্রভুর ক্ষমা ও সেই জান্নাতের দিকে ধাবিত হওয়ার প্রতিযোগিতা করো, যে জান্নাতের ব্যপ্তি মহাকাশ ও পৃথিবীর ন্যায় প্রশস্ত। এমন জান্নাত প্রস্তুত রাখা হয়েছে শুধু তাদের জন্য যারা আল্লাহ ও তাঁর বার্তাবাহককে বিশ্বাস করে।” [সূরাহ আল-হাদীদ, ৫৭:২১]

বোন, আল্লাহকে ভুলে যেয়েন না, তাহলে এই দুনিয়া ও পরকালে আল্লাহও আপনাকে ভুলে যাবেন। আপনার উপর থেকে তাঁর দয়া, মায়া, মমতার দৃষ্টি তুলে নেবেন। আল্লাহকে যথাযথভাবে উপাসনা না করে, তাঁর আনুগত্য না করে আপনি আপনার আত্মার হক আদায় করছেন না, ভুলে যাচ্ছেন আপনার নাফ্সের কথা।

ভণ্ডদের ব্যাপারে আল-কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, “ওদের মতো হয়ো না, যারা আল্লাহকে ভুলে যায়, যার ফলে আল্লাহও তাদেরকে তাদের নিজেদের কথা ভুলিয়ে দিয়েছেন।” [সূরাহ আল-হাশ্র, ৫৯:১৯]

বোন, পাপের বোঝা ভারি না করে অল্প বয়স থেকেই হিজাব করা শুরু করুন। কেননা, আল্লাহ শাস্তি দানে খুবই কঠোর। পুনরুত্থানের দিনে তিনি আপনার জীবনের প্রতিটা মুহূর্তের হিসেব নেবেন।

সংক্ষেপে : ভবিষ্যতে করবেন এমন আশা ছেড়ে দিন। কেয়া পাতা কাল হো না হো? এক মুহূর্ত বেঁচে থাকার নিশ্চয়তাই বা কে দিচ্ছে আপনাকে?

অজুহাত ১০ : “হিজাব বা পরিপূর্ণ পর্দা করলে লোকজন আমার গায়ে বিভিন্ন ইসলামিক দলের তকমা লাগিয়ে দেবে। আর আমি এসব দলাদলি মোটেও পছন্দ করি না।”

বোন, ইসলামে মাত্র দুটো দল আছে। মহান আল্লাহ তাঁর গ্রন্থে এই দুটো দলের নামই উল্লেখ করে দিয়েছেন।

প্রথম দল হচ্ছে আল্লাহর দল। তাঁর আদেশের আনুগত্য এবং তিনি যা করতে নিষেধ করেছেন, তা থেকে বিরত থাকার কারণে, এই দলটিকে তিনি চূড়ান্ত বিজয় দান করবেন। আর দ্বিতীয় দলটি হচ্ছে, অভিশপ্ত শয়তানের দল। এরা আল্লাহর আদেশ অমান্য করে এবং পৃথিবীত অশান্তি সৃষ্টি করে। আপনি যদি আল্লাহর আদেশের অনুসরণ করেন—যার মধ্যে হিজাব একটি—তাহলে আপনি সাফল্য লাভকারী আল্লাহর দলের একজন গর্বিত সদস্য। কিন্তু যখন আপনি পরিপূর্ণ পর্দা করেন না, আল্লাহর বিধিনিষেধ মানেন না, আপনার সৌন্দর্য প্রদর্শন করে বেড়ান, তখন আপনি শয়তানের নৌকোয় উঠে বসলেন। আপনি তখন গলা মেলালেন শয়তানের সঙ্গী-সাথী, ভণ্ড-মুনাফিক ও অবিশ্বাসী-কাফিরদের সাথে। বন্ধু হিসেবে এদের চেয়ে জঘন্য আর কে আছে?

আপনি কি টের পাচ্ছেন না, কীভাবে আপনি আল্লাহর কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন, আর ধীরে ধীরে শয়তানের গুহায় প্রবেশ করছেন? বোন আমার আল্লাহর দিকে এগিয়ে যান, তাঁর নির্দেশনা মেনে চলুন: “আল্লাহর শাস্তি থেকে আল্লাহর রহমতের দিকে ধাবিত হও। আমি (মুহাম্মাদ) তোমাদের জন্য তাঁর পক্ষ থেকে একজন সতর্ককারী।” [সূরাহ আয-যারিয়াত ৫১:৫০]

হিজাব বা পরিপূর্ণ পর্দা করা একটি উচ্চ পর্যায়ের ইবাদাত। কোনো লোকের মতামত বা ব্যক্তিগত পছন্দ, কোনো দলের পরিচিতির সাথে এর কোনো লেনাদেনা নেই। হিজাবের বিধান দিয়েছেন মহাজ্ঞানী স্রষ্টা আল্লাহ।

সংক্ষেপে : আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, তাঁর দয়া ও জান্নাতের প্রত্যাশায় মেনে চলুন আল্লাহর বিধান। মানুষ ও জিনদের মধ্যে মন্দদের অপবাদে কুছ পরোয়া নেহি। এদের কটূক্তিকে দেওয়ালে ছুঁড়ে ফেলে অনুসরণ করুন পূর্বসূরি সংগ্রামী ও জ্ঞানী নারী সাহাবাদের (তাঁদের সবার উপর আল্লাহ সন্তুষ্ট হোক) দৃষ্টান্ত।

শেষ কথা

শয়তান নারীদেহকে পুরুষের চোখে আকর্ষণীয় মোহনীয়ভাবে তুলে ধরে। আপনার চুলের স্টাইল, আঁটসাঁট পোশাক আপনার অবয়বকে স্পষ্ট করে মেলে ধরে। ছোট ছোট পোশাক, মাত্রাতিরিক্ত সৌন্দর্যের বহিপ্রকাশ শয়তানকে তুষ্ট করে, অন্যদিকে আল্লাহর ক্রোধের উদ্রেক করে। এভাবে দিনকেদিন আপনি দূরে সরে যান আল্লাহর কাছ থেকে। আর ক্রমান্বয়ে সন্ধি পাতেন অভিশপ্ত শয়তানের সাথে। যতদিন না অনুশোচনা করছেন, প্রতিটা দিন আপনি ভাগীদার হচ্ছেন আল্লাহর অভিশাপ আর ক্রোধের। প্রতিমুহূর্তে আপনি কবরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। মৃত্যুদূত আপনার আত্মাকে হরণ করার জন্য সদাপ্রস্তুত। “প্রত্যেক মানুষই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। আর কেবল পুনরুত্থানের দিনেই তোমাদের কৃতকাজের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে। আর সেদিন যাকে জাহান্নামের আগুন থেকে সরিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সে-ই প্রকৃত সফলকাম। এই পার্থিব জীবন কেবলই ছলনার সামগ্রী।” [সূরাহ আলি-ইমরান, ৩:১৮৫]

স্টেশন ছেড়ে ট্রেন চলে যাওয়ার আগেই উঠে পড়ুন তাওবার বগিতে। অনুশোচনা করে ফিরে আসুন আল্লাহর কাছে। বোন আমার, একটু গভীরভাবে ভেবে দেখুন। সময় ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই সিদ্ধান্ত নিন। আজ থেকেই তবে শুরু হোক আল্লাহর সন্তুষ্টির সাথে পথচলা।

 

তরুণ প্রজন্মের বিয়ের প্রস্তুতি ও একটি সরল মূল্যায়ন !

বর্তমান সময়ে এমন আদর্শিক ‘তরুণ -তরুণী’ আশেপাশে খুজে পাওয়া হয়তো অনেক কষ্টের ; যারা চলমান সমাজের ‘বেপর্দা -পাপাচারে’র প্রভাবে নানান মানসিক চাহিদার আগুন নিভানোর জন্য রীতিমত হিমশিম খাচ্ছেনা ।এক দিকে নিজ দেশের বেপর্দা নারী আর আবেদনময়ী নানা সুরের গান যেমন” মান চাইলে মন পাবে , দেহ চাইলে দেহ” আরও এমন কত কি !অপরদিকে হিন্দি সিনেমার নায়িকাদের ”ইশক মে জিসম জ্বল নে দে” ” গলা লাগ জা” শিলা কি জোয়ানি” কাটা লাগা ” ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা পানি আর পানি মে আগ” এসব শোনে শোনে ‘ঈমান আর তাকওয়ার’ নুর ‘তরুণ প্রজন্মের’ মন থেকে দূরে চলে যাচ্ছে আর  ‘তরুণ প্রজন্মের’ মনে জন্ম নিচ্ছে নানা চাহিদা; আর এই চাহিদা মিটাতে গিয়ে  ‘তরুণ প্রজন্মের’  মধ্যে গড়ে উঠছে প্রেম ভালবাসা নানা রকম অবৈধ সম্পর্ক যার ফলে তারা নানা রকম পেরেশানির আযাবের গ্রেপ্তারর হয়ে হারাচ্ছে হায়াতের জীবনের ইসলামী আদর্শিক জীবন গড়া বা আল্লাহ্‌র পছন্দনীয় পথে আমল করার এত মূল্যবান সময়।

যৌবনকালে একদিকে যেমন উন্নতি ও অগ্রগতির উপযুক্ত সময়, তেমনি অবনতি ও ধ্বংসেরও প্রথম সিড়ি। এ সময় ঈমান-আকীদায় দৃঢ়তা না আসলে, আখলাক ও চরিত্রগত পরিশুদ্ধি অর্জিত না হলে জীবনের উৎকর্ষ সাধন খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। তাই মুসলিম  ‘তরুণ প্রজন্মের’  ঈমানী চেতনার মূলে কুঠারাঘাত হেনে, তাদেরকে চারিত্রিক অধঃপতনের অতল গহ্বরে তলিয়ে দিতে পাকাপাকি ব্যবস্থা করে ইহুদী-খ্রিষ্টান শত্রুদল। অপরদিকে অভিভাবক মণ্ডলীর মূর্খতা, তাদের বাস্তুবাদী মোহ, অদুরদর্শীতা ও অবহেলার কারণে যুব সমাজ ক্রমান্বয়ে যৌবনের উত্তাল তরঙ্গে ভেসে যেতে শুরু করে। এভাবেই শুরু হয় মুসলিম  ‘তরুণ প্রজন্মের’  সমাজে চরিত্রহীনতা, নাস্তিকতা ও ধর্মদ্রোহীতার কালো অধ্যায়। যে কারণে আজ মুসলমানদের শিক্ষা-দীক্ষা, কৃষ্টি-সভ্যতা, ঐতিহ্য ও জাতীয় ঐক্য সবকিছুই ধ্বংস্তুপে পরিণত হতে চলেছে। এটা কেবল শত্রুদের দ্বারাই হচ্ছে না, মুসলমানদের নিজেদের অযোগ্যতা ও অসচেতনতার কারণেও ঘটেছে।

তরুন প্রজন্ম

যৌবনকালের এই আগুন যেভাবে লাগেঃ

যৌবনকালের এই আগুন কিভাবে ‘তরুণ প্রজন্মের’  মধ্যে ঠিক লাগবে তার কোন নির্দিষ্ট কারন জানা নেই। মূলতঃ অবস্থা- পরিবেশের উপর অনেকটা নির্ভর করে ।আমার সাড়া জীবনের যত নিউস এবং ঘটনা সামনে এসেছে তার মধ্যে কিছু কারন লিখলাম মিলিয়ে দেখেবন!

১- পরিবারে ‘ মা-বাবা ,বোন বা বোনে’র স্বামী’ অথবা ‘ভাই-ভাইয়ে’র বউয়ের পারিবারিক ‘আচার-আচরণ, মিলামিশা যদি পর্দাশীল না হয় তাহলে  ‘তরুণ প্রজন্মের’ সন্তানের মধ্যে সেই আগুন খুব সহজে লাগতে পারে । আমাদের উলামারা বলে – সন্তানের সামনে ‘মা-বোন’ কখনই যেন বেপর্দা হয়ে কাপড় পরিবর্তন অথবা স্বামীর সাথে ভালাবাসার আবেদনময়ি কথায়না বলে। এমন কোন কাপড় যা অন্তঃবাসের তা তার নিজের আপন ‘ছেলে-মেয়েদের সামনে রাখা যাবেনা । একটি ঘটনা বলি – আমার এক ভাই আমাকে ফোন করে মাছালা জানতে চায় । সে বলে – ভাইয়া , আমার আম্মু এমন অবস্থায় নজরে আসে যা আমি আপনার কাছে বলতে পারছিনা। এখন কি করবো ? বন্ধুগন ,চিন্তা করেন নিজের মায়ের বেপর্দা আচরণে সন্তান কি করবে বুঝতে পারছেনা !

২- নতুন প্রজন্মকে নিজস্ব সংস্কৃতির বলয় থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে ভারতীয় বিশেষ করে হিন্দি সংস্কৃতি। এ আগ্রাসনের কবলে পড়ে পারিবারিক-নৈতিক-সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্কটে পড়ছে দেশ। ভাষা হিসেবে বাংলা এবং সংস্কৃতি হিসেবে আমাদের নিজস্ব বলতে কিছু আর অবশিষ্ট থাকছে না। বিনোদনের নামে ইন্টারনেট, মোবাইল ফোনের ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস, স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল, এফএম রেডিও এবং দেশের অভ্যন্তরে ভারতীয় শিল্পীদের নিয়ে নানা আয়োজন চলছেই। তাদের সিনেমা – নাটক অথবা অশ্লিল ভঙ্গির নাচ অথবা গান এ গুলো কত যে ক্ষতি করে তা তো নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখেনা।

৩- ” ভাবি’ নামে এক শ্রেনির নারী আছে। এরা ইসলামীক আদর্শের পর্দাশীল না হলে আশে পাশে কোন ‘ছেলএ-মেয়ে’ নষ্ট না হয়ে পারবেনা। এই ভাবিদের প্রথম কাজ ননদকে নষ্ট করা  কারন ভাবীরা তার স্বামীর গোপন কথা গুলো ননদকে বলে, দেবরকে বলে অথবা ভাবীর বেপর্দা বা কথিত ‘ ফ্রি’ আচরণে পরিবারের প্রজন্মের চারিত্রিক অধঃপতন হতে পারে ।ভাবীরা কথায় কথায় -মজা করে বলে-” বিয়ে করলে টের প্লে-‘;যা আরও অনেক কিছু জানার আগ্রহ সৃষ্টি করে। আমার মনে হয় বিয়ে হলে – মেয়েদের লজ্জা অনেক কমে যায়।পর্দা করলেও এমন সব শব্দ  তারা মুখে বলে যাতে অনেক সমস্যা নিজে নিজে সৃষ্টি হয়।ননদ তার বয় ফ্রেন্ডের গল্প বলে আর ভাবী ভাইয়ের দাম্পত্য ব্যাবহারে গল্প  ননদকে বলে ।এতে ননদের চরিত্র নষ্ট হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

হাদিসে এসেছে – হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন, “দেবর-ভাসুর মৃত্যু সমতূল্য ভয়ানক বিষয়।” অথ্যাৎ মৃত্যু যেমন জীবনে জন্য ভয়ানক, অনূরূপ ভাবে চাচাতো, মামাতো, ফুফাতো, খালাতো ভাইবোন ও দেবর ভাবী ও শালিকা-দুলাভাইয়ের সাক্ষাত ঈমান আমলের জন্য তদ্রুপ ভয়ানক। তাহলে সেই একি বেখায়ালি আচরণ যদি ভাবী দেবরের সাথে করে তাহলেও আগুন লাগতে পারে ।

৪- প্রাইভেট বা টিউসনি ! আমি যখন ইবনে তাইমিয়া স্কুল এন্ড কলেজে পড়তাম তখন ক্লাস ‘সেভেনের’ এক মেয়েকে পড়াতাম। ভালই টাকা পেতাম। কিন্তু এই মেয়ে এত চালু ছিল যে -তার হাসি খুশি ,আবেদনময়ী আচরণ আমার জন্য সব সময় টেবিলের মধ্যে বসেই পীড়াদায়ক হত । পড়ে আমি তাকে পড়ান বাদ দিলাম। আপনি নিজে দেখুন শিক্ষক -ছাত্রীর মধ্যে এমন হাজার হাজার ঘটনা আমরা হয়ত পেপারে পড়েছি তাই  বলা যায় প্রেম ভালবাসা গড়ে উঠার একটি প্রধান জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে -প্রাইভেট পড়ান!! শিক্ষক – ছাত্রির মধ্যে সহজে শয়তান আবেদন -আকর্ষণ সৃষ্টি করে তথা প্রেম -ভালবাসা গড়ে তুলতে পারে কারন বেশি ভাগ সময় এই দু জনই অবিবাহিত থাকে এবং  এ ভাবে কিন্তু তারা একান্ত সময় বেশি পাবার কারনে সুযোগও বেশি পাচ্ছে।

৫- ” অসৎ ‘ বন্ধুর কারনে ঐশীর মত বিকৃত মানসিকতার কি জঘন্য মেয়ে গড়ে উঠে তা তো সকলের সামনে প্রমানিত হয়েছে। এই মেয়ে কিভাবে অবাধ মিলামিশা ,পার্টি , নাচ-গান এবং নেশা করত এবং পড়ে মা-বাবা বাধা দিলে তাদের হত্যা করা খুব বেশি দিনের ঘটনা এটা না । মাত্র কিছু দিন আগে গোটা জাতি এই সমালোচনাই করেছে।আর এই মেয়ে নষ্ট হবার জন্য তার বন্ধুরাই সবচেয়ে বেশি দায়ি ছিল। তাই নষ্ট হওয়া প্রতিটা তরুণ- তরুণী খারাপ অভ্যাসের অনেক তথ্য হয়ত প্রথমে তার কাছের বন্ধুদের কাছ হতেই পেতে পারে। এই খারাপ বন্ধুদের মাধ্যমে অনেক ভাই বা বোন প্রথম খারাপ সিনেমা অথবা ম্যাগাজিন বা নারী -পুরুষের শারীরিক মিলামিশার ধারনা এবং নেশার জগতেও যেতে পারে।

৬- ” প্রেম -ভালবাসা’ একটি ব্যাধি ! এই সমাজে না জানি কত লক্ষ লক্ষ ভাল ক্লাস ‘ছেলে -মেয়ে ‘ নষ্ট হয়েছে শুধু ‘প্রেম – ভালাবসা’র কারনে তা বলে শেষ করা যাবেনা। কিছু না কিছু চারিত্রিক অধপতন ঘটবেই প্রেম করলে ।হয়তো সেটা অনেক ক্ষেত্রে প্রকাশ পায় আবার অনেক ক্ষেত্রে মান -সম্মানের ভঁয়ে এটা প্রকাশ পায়না। প্রেমের সম্পর্ক অনেক গভীর হয়।তাই বিয়ের আগেই ছেলে- মেয়ে কত নিচে নামতে পারে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। দেখননা কয়েকদিন পর পর পেপারে আসে অমুক প্রেমিক তার প্রেমিকার ভিডিও করে ইন্টারনেটে ছেড়ে দিয়েছে ! ভিডিও ফটো দেখিয়ে প্রেমিকার বাবার কাছে টাকা দাবি করছে ; আরো কত কি ?

‘ফেইসবুকে / ইন্টারনেটে কিভাবে লাগে এই আগুনঃ–আধুনিক যুগে যুবক ও যুবতীদের মাঝে ইন্টারনেট প্রীতি, গভীর মনোনিবেশ সহকারে এর যথেচ্ছ ব্যবহার, কোন প্রকার ক্লান্তি অথবা বিরক্তবোধ ছাড়াই দীর্ঘ সময় ধরে ইন্টারনেটের সামনে বসে থাকা এমনি একটি বিষয় যা সামাজিক ও চারিত্রিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এখানে আমরা সঠিক পথ প্রাপ্ত যুবক যুবতীদের ব্যাপারে কথা বলছিনা, যারা ইন্টারনেটকে বৈধ প্রয়োজনে ব্যবহার করে, অথবা জাতির কল্যাণে ব্যবহার করে অথবা বিভিন্ন কল্যাণকর অঙ্গনে ব্যবহার করে। যেমন সৎ কাজের আদেশ, অসৎ কাজের নিষেধ, ইসলামের দিকে দাওয়াত, ইসলামের শত্রুদের জবাব দান, উত্তম চরিত্র ও উপকারী জ্ঞান বিজ্ঞনের প্রসার। আর তারা মাকড়সার জালের ন্যায় পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা এ ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল উপকারী ও কল্যাণকর বিষয় সমূহ থেকে যথা সম্ভব উপকৃত হয়ে থাকে।

বরং আমরা কথা বলছি ঐ সকল হাজার হাজার যুবক ও সমূহ বিপদগ্রস্থদের ব্যাপারে, যারা ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিপর্যস্ত হয়েছে, এতে কঠিনভাবে আসক্ত হয়েছে, এমনকি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সমূহ থেকে বিমুখ হয়েছে। ফলতঃ ইন্টারনেট এদেরকে সন্ত্রাস ও বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্ম কান্ডের দিকে ধাবিত করেছে। তাদেরকে ইন্টারনেট কি কল্যাণ উপহার দিয়েছে? আল্লাহর দিকে দাওয়াতের ক্ষেত্রে কোন উপকারিতা কি তারা পেয়েছে?
তারা ইন্টারনেটকে ব্যবহার করে উলঙ্গ ছবি দেখার ক্ষেত্রে, অশস্নীল দৃশ্যসমূহ উপভোগ করার জন্য এবং এমন অবৈধ ওয়েবসাইট সমূহ খোঁজার ক্ষেত্রে, যা একজন যুবককে পাশবিক শক্তিতে বন্দি করে ফেলে আর পাশবিক কুপ্রবৃত্তির সামনে দূর্বল করে ফেলে। ফলে তাকে ফলদায়ক উপকারী যে কোন কাজ থেকে বিরত রাখে এবং তাকে সংকীর্ণ গন্ডীতে বন্দি করে রাখে। এ চক্রটি কুপ্রবৃত্তি এবং পাশবিক শক্তির বৃত্ত, যা তাকে পূর্ণভাবে গ্রাস করে নেয়।অথচ এ ইন্টারনেট বিভিন্ন অঞ্চলের বিভিন্ন ঘটনাবলীর মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য ব্যবহার করা যায়, এক কথায় যাকে ‘বিশ্বকে এক কক্ষে নিয়ে আসার মাধ্যম’ বলা যায়।

এর মাধ্যমে উলঙ্গ ছবি দেখা অথবা পথভ্রষ্ট যুবক যুবতীদের মাঝে যোগাযোগের মাধ্যমে এত বেশী সময় নষ্ট করা হয়, যে সময় তার জীবন উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করা যেতো। ড. সুলাইমান আল-খুদারী বলেন, এ অশ্লীল ছবি সমূহ যুবক যুবতীদের মানসিক ও স্বাহ্যগত দিক থেকে অত্যন্ত ক্ষতিকর, কেননা এ ছবি সমূহ তার মনে ও ব্রেইনে সারাক্ষণ ঘুরপাক খেতে থাকে, ফলে তা দেখা তার বদ অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়। যখন ইন্টারনেটের মাধ্যমে এ ছবি সমূহ দেখা হয়, তখন সে যে কোন উপায়ে সে পরিতৃপ্ত হতে চায়। আর তখনই এর ক্ষতিকর দিক প্রতিফলিত হয়, ফলে সে ভ্রান্ত অভিজ্ঞতায় অথবা সাময়িক আনন্দের অভিজ্ঞতায় পা দেয়, যার ফলশ্রুতিতে সে শারিরীক ও মানসিক বিভিন্ন ক্ষতিকর রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে এবং ভ্রান্ত জীবনের বর্ণিল চরকিতে ঘুরপাক খেতে থাকে।

পরিসংখ্যানবিদ ও বিশ্লেষকদের মতেঃ-
১. ইন্টারনেটের আড্ডায় নিমজ্জিত ৮০% যুবক পরবর্তীতে বিয়ে করে না।
২. এদের ৭০% নিষিদ্ধ পল্লীতে যাতায়াত করে এবং উচ্ছৃঙ্খল জীবন যাপনে অভ্যস্থ হয়ে পড়ে।
৩. এদের ৫৫% তাদের পরিবারের কোন খোঁজখবর নেয়না।
৪. এদের অধিকাংশই খারাপ ওয়েবসাইট সমূহের ঠিকানা বিনিময় করে, এমনকি তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সমূহেও। ফলে এটি শিক্ষা কার্যক্রকে বড়ই বাধাগ্রস্ত করে।
৫. ইন্টারনেটে আসক্ত অধিকাংশ যুবকের শিক্ষা জীবনের উপর এর কুপ্রভাব পড়ে। তাদের কেউ কেউ লেখাপড়ায় অগ্রগামী থেকেও পরে পর্যায়ক্রমে পশ্চাদগামী হয়ে পড়ে।
৬. ইন্টারনেটে আসক্ততা নৈতিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে গড়ে উঠার পরিবর্তে অভ্যন্তরীন দ্বন্ধ-সংঘাতের ঘটনা ঘটায়। ফলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে এক নতুন মুল্যবোধ গড়ে উঠে।
৭. যেমনি ভাবে ইন্টারনেট পারিবারিক বন্ধনকে শিথিল করে দেয়, তেমনি এর মাধ্যমে স্বাভাবিক বিবাহের মাধ্যমে গঠিত পরিবারতন্ত্র ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। ফলে পরিবারের পরিবর্তে অবৈধ পন্থার অবাধ জীবন যাপনে এরা অভ্যস্ত হয়ে উঠে। এরা মনে করে যৌনতাই বিবাহের মূল উদ্দেশ্য, আর সে উদ্দেশ্য যদি বিবাহ ছাড়াই পূরণ করা সম্ভব হয়, তাহলে বিাবহের আর প্রয়োজন কি? অথচ ইসলামের দৃষ্টিতে বিবাহ বন্ধনে আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য নিহিত রয়েছে।
৮. কম্পিউটার সামগ্রীর মূল্য এবং ইন্টারনেট সংযোগ সস্তা হওয়ার ফলে অধিক সংখ্যক যুবক ইন্টারনেট জগতের দিকে ঝুঁকে পড়ার সুযোগ পায়। ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে প্রায় ৪ লক্ষ ওয়েবসাইটের সাথে তার যোগাযোগ স্থাপিত হয়। অনেক রক্ষণশীল পরিবারের সন্তানদের শুধু ইন্টারনেট ব্যবহারের ফলে নৈতিকতা দূর্বল হয়ে পড়ে।(ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী)

ফেইসবুকে যে ভাবে এই আগুন লাগতে পারেঃ- কিছুদিন আগে এক বোন আমাকে বলেছিল – ‘ দাওয়াত ও তাবলীগ ‘ জামায়াতের সবাই কেন ফেইসবুকে এসে দাওয়াতের কাজ করেনা? তাকে আমি বলেছিলাম – আপু , ফেইসবুক হচ্ছে একটা ‘ফেতনা , ফেতনা , ফেতনা ”! নারী , গান , উলঙ্গতা, মিথ্যা , নানান মানুষের নানা অশ্লিল মত এবং প্রেম – ভালবাসার আবেগময়ই পোস্ট গুলো দেখে ‘ দাওয়াত ‘ যারা দিবে তাদের নিজের আমল আর বেশী খারাপ হয়ে যায় ।জীবনে কোন মেয়ের উলঙ্গ শরীর দেখি নি । আল্লাহ্‌ মাফ করে’ ফেসিবুকে খুব সহজে এ গুলো আমার সামনে এসে যাচ্ছে । গান , মুভি শুনি না টাও সামনে আসতেছে ।প্রেম আবি জাবি নিয়ে মাথা ঘামাইনা কিন্তু সামনে এসে যাচ্ছে ! ফেইসবুকে কত রকম সম্পর্ক গড়ে উঠে তা আপনারা ভাল করেই জানেন।

ইউরোপ অথবা বিদেশের গেলে যেভাবে লাগে আগুনঃ- অনেকে তার সন্তানকে বিদেশ পাঠিয়ে দেয় কিন্তু সেই সকল ‘মা -বাপ ‘ জানেনা তার সন্তান এই দেশে এসে চারিত্রিক কি অধপতনে পড়ে ছটফট করে ।

আমি যখন ক্লাস ৭ম শ্রেনিতে পড়ি তখন পাশের বাড়ির কোন অনুষ্ঠানে এক ভাবী আমার মুখে হুলুদ লাগানোর জন্য পিছন দিয়ে এসে শার্টে স্পর্শ করে। আমি এত লাজুক ছিলাম যে – আমার শার্ট ছিরে ফেলেছে কিন্তু উনার কাছ হতে ছুটার জন্য রীতিমত কান্না শুরু করে দিলাম। কিন্তু লজ্জার মত এত বড় নেয়ামত কিন্তু আমি পরিবেশের কারনে ধরে রাখতে পারিনি।

সেই আমি ,লন্ডনে এসে ৪ বছরে যত রঙের আর ডঙের নারীর আবেদনময়ী নানা আকর্ষণীয় আচরণ দেখেছি তা লন্ডনে আসার আগে কোনদিনও দেখিনি ।গ্রাহক সেবার জন্য যখন আমি কেশ এ দাঁড়িয়ে যাই, তখন আমি আমার ঈমানকে হারিয়ে ফেলি কারন এটা কে না জানে যে , গ্রাহকের চোখে চোখ রেখে ‘ হাসির সাথে সুন্দর নরম নরম কথা বলে সার্ভিস করতে হয়। আর না হলে একটুতে চাকরি চলে যাবে।আর এই ধোঁকাতে চোখের গোনাহ হতে বেঁচে থাকা কত কষ্টের তা এক আল্লাহ্‌ আর ভুক্তভোগী কোন অসহায় আল্লাহ্‌ প্রিয় সাধারণ যুবকই কিন্তু ভাল জানে। আর এখানে পুরুষের চেয়ে নারীদের উপস্থিতি অনেক বেশি হয়। ইউরোপের মেয়েরা আবার আমাদের বাংলাদেশি মেয়েদের মত পিচ্ছি -মরা ‘টাইপেরনা। ওদের লাবণ্যতা যেমন আকর্ষণীয়; ঠিক তেমনি আছে তাদের শারীরিক উচ্চতা এবং গঠন। তাই সামনে কোন সুন্দর তক তকে সাদা,হুলদে,লাল চামড়ার একটি অর্ধ উলঙ্গ তাজা ফুটন্ত শরীরের মোহনীয় নারী,যার টাইটস অথবা ফিটিং শর্ট স্কাপ কাপড় হাঁটুর অনেক উপড়ে থাকে এবং কোন পাতলা আবরনের কাপড় বুকের উপর অর্ধ বুক খোলা রেখে এবং পিছনে পিটের উপরে কাপড়ের পরিবর্তে শুধু যদি দু-একটি ফিতা নজরে আসে তাহলে কি যে আকর্ষণ সৃষ্টি হয় তা বলার অপেক্ষা রাখেনা । আবার যদি কোন মেয়ে এমন অর্ধ উলঙ্গ গেটআপের  সাথে ৩০-৪০ হাজার টাকার দামি অ্যালকোহল মিশ্রিত পারফিউম; যার প্রধান কাজ হচ্ছে নাকে যাবার সাথে সাথে যৌন উদ্দীপনা সৃষ্টি করে দেওয়া ব্যাবহার করে লাল লাল গাল আর গোলাপি দু ঠোঁটে হেসে হেসে, উঁচু জুতা পড়ে টাক টাক আওয়াজে  খোলা চূলে কোন মুসলিম যুবকের সামনে এসে দাঁড়ায় তখন কি হয় তা বলার ভাষা জানা নেই ।এমন সময় আমি অনেক মুসলিম কলিকদের বলতে শোনেছি- ‘ হায়- ”সুবাহানাল্লাহ” আল্লাহ্‌ হু আকবার”মাশাল্লাহ” এত সুন্দর নারী যেন বেহেশ্তের হুর। ওপ ”জাহিদ” একবার যদি এই মেয়েটাকে কাছে পেতাম ”ইস” কি যে করতাম , জীবন সাকসেস হয়ে যেত; আরও কত কি? যখন বলি ভাই এটা ঠিক না । তখন তারা বলে -আল্লাহই বানিয়েছে ,দেখার জন্য। বলুন তো- যে সব তরুণ -তরুণী এই সব দেশে আসে, তারা কত বার নিজেকে এই অশ্লিলতা হতে বাঁচাবে? আবার এই সব দেশে এমন কোন ম্যাগাজিন ,পত্রিকা নেই যেখানে নারী উলঙ্গ শরীরের ফটো নেই।

‘২২ ডিসেম্ভার ২০১২ ,আমি লন্ডন ‘Oxford Circus’ হতে হেটে ‘Piccadilly’ কোন একটি বাস স্টপে দাঁড়িয়ে ছিলাম।চারদিকে উলঙ্গ মেয়দের আনাগনা নতুন অনেক খেয়াল মনে জন্ম দিচ্ছিল।বাসের জন্য অপেক্ষা করতে করতে কি অজানা খেয়ালে আমিও এদিক -সেদিক দেখছিলাম।হটাত,একটা শক্তিশালী মেয়ে আমার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে দেখলাম কিন্তু কিছু বুঝার আগেই সে আমাকে বুকে নিয়ে শক্ত করে ঝাঁপটিয়ে ধরলও,আমার এক হাতে খাবার, আরেক হাতে কোর্ট , হায় আল্লাহ্‌-মেয়েটির সাথে আরও ৮-১০টা মেয়ে আমাকে ঘিরে রেখেছে আর ও খুব লম্বা এবং শক্তিশালী প্লাস মদ খেয়ে নেশা গ্রস্ত ছিল।হাজারো মানুষের সামনে সে আমাকে কিস শুরু করে বার বার বলছে ”BABY LET’S GO WITH ME”DO U LIKE ME?”আমিঃ এমন ভিড়ের মধ্যে আটকিয়ে গেলাম এবং চারদিকে মেয়ে – ছেলে কি যে অবস্থা ! আমার তো চোখ, কান , মুখ দিয়ে গরম হাওয়া বের হচ্ছিল। কারন ছুটার জন্য আমিও পুরো শক্তি লাগালাম প্রথমে ভাবছিলাম ওই মেয়ের কোথায় আমি হাত দিয়ে ধাক্কা দিব?পরে ঠিক মনে নেই কোথায় স্পর্শ করে পুরো শক্তি দিয়ে ধাক্কা মেরে ওকে ফেলে দিলাম।২ মিনিটে আমার যে অবস্থা হয়েছিল সাথে ২৯০০০ টাকা ও ছিল তারপর আমি সামনে চলে আসলাম আর সে পিছে হতে ইংরেজিতে গালি দিচ্ছিল।জীবনে এই প্রথম আমি এত বেজ্জতি হলাম,আসলে একটু দূরে এসে মনে হয়েছে বেজ্জতির সাথে এমন উদ্ভুত ভাল হট ফিল করছিলাম।কোন মেয়ে এ ভাবে বুকে ঝড়িয়ে ধরবে কখনো সপ্নেও ভাবি নি।আমার কান্না ও আসে আবার হাসিও আসে তাই সেয়ার করলাম। দোয়া করবেন আল্লাহ্‌ ঈমান আমল হেফাজত করে।

আমি উপড়ের এই কয়েকটি ঘটনা এই জন্যই লিখেছি যাতে আপনাদের কাছে এই বার্তা যায়-টাকার জন্য বিদেশ যাওয়ার চেয়ে দেশে হাতুরির কাম করা অনেক ভাল কারন ঈমান তো বাঁচবে…….. কিন্তু আমাদের বাবা – মা তো দেশে গর্ব করে -আমার ছেলে লন্ডন । কসম আল্লাহ্‌র ! নিজের সন্তান কোন দিন বিদেশ পাটিয়ে নষ্ট করবোনা ইনশাল্লাহ ।

যৌবনকালের এই আগুন নিভানোর সহজ ‘রাস্তা’ :- এই ‘আগুন’ যদি কোন ছেলে- মেয়ের লেগে যায় তাহলে সমাধান একটাই বিয়ে । আপনি ছাত্র / ছাত্রি হলেও আগুন নিভানোর জন্য বিয়ের জন্য হালাল এবং বরকতের বা সুখি সুন্দর স্থির জীবনের জন্য এখনি প্রস্তুত হন। প্রেম রাখেন বিয়ে করেন। বিয়ে করার জন্য যদি আপনি সুযোগ খুঁজেন ‘ আল্লাহ্‌র কসম’ আপানকে আল্লাহ্‌ সাহায্য করবেই করবে। কিছুদিন আগে আমার এক বন্ধুকে- আমি বলেছিলাম -যদি তোর মধ্যে যৌবনকালের এই আগুন লেগেই থাকে তাহলে দু – রাকাত নামাজ পড়ে ‘আল্লাহ্‌র ‘ কাছে দোয়া করে তারপর আম্মুর পায়ে গিয়া পড় । আম্মুকে সব বুঝিয়ে বল। আম্মুকে বল – ঈমানের দাম অনেক বেশি । প্রয়োজনে মসজিদের ইমাম সাহেব বা কোন হক্কানি আলেম দিয়ে আম্মুকে বুঝিয়ে বলেন। বাবা বুঝতে চাইবেনা কিন্তু আম্মু নারী তাই ঠিক আপনি কি সমস্যা ফিল করছেন তা বুঝবে ।আম্মুর সাথে কথা বলার জন্য আপনি আপ্নার কোন প্রিয় বড় ভাই- বোন অথবা খালাম্মা – মামীর সাহায্য নিতে পারেন। আমি বলছি – সাহস করেন এবং পরিবারকে এটা বুঝিয়ে দেন যে , আপনার বিয়ে করা দরকার আর যদি বিয়ে তারা করতে বাঁধা সৃষ্টি করে তাহলে আপনার যে কোন গুনাহ এবং ভুলের জন্য তারা দায়ি থাকবে।

বন্ধুরা, বিয়ে আপনার ঈমানের ব্যাপার। আপনার জান্নাতের রাস্তার ব্যাপার। আপনার মনের শান্তির ব্যাপার এটা পরিবারের সম্মান বা সমাজ কি বলবে তা দেখার বিষয় নয়। তাই আপানদেরকে বলি – চাকরি , বাড়ি , গাড়ি অথবা অন্য চেষ্টা পড়ে – আল্লাহ্‌কে সাথে নিতে হলে আগে বিয়ের চেষ্টা করতেই হবে। কিভাবে না বুঝলে কোন আলেম ভাল বুঝবে।এস্তেখারা করেন , মাসোয়ারা করেন ।

একটা কথা – চিঁড়া পানিতে ভিজবে যেমন ঠিক তেমনি যৌবনকালের এই আগুন একমাত্র বিয়েতে সমাধান হবে আর না হয় কত যে বিপদ নেমে আসবে তা আল্লাহ্‌ই একমাত্র ভাল জানে।

কুরআন ও হাদিসে বিবাহঃ-

বিবাহ ধর্ম কাজে সহায়ক, শয়তানের চক্রান্ত থেকে আত্মরক্ষার মুজবুত প্রাচীর এবং উম্মতের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রধান উপায়। এই সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে নবী কারিম (সঃ ) অন্যান্যই নবীদের উপর গর্ব করবেন।
দেখুননা কুরআন ও একি সাক্ষী দেয়-”তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সংগিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তিতে থাক এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।(সূরা আর-রুমঃ২১)অংশ।

হাদীসে আছে,“যে ব্যক্তি চরিত্র রক্ষার উদ্দেশ্যে বিবাহ করে, আল্লাহ তাআলা তার সাহায্য করাকে নিজের প্রতি অবধারিত করে নিয়েছেন।”(তিরমিযী, হাদীস : ১৬৫৫; নাসায়ী, হাদীস : ৩২১৮)

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,“যে ব্যক্তি কোন নারীকে বিবাহ করবে (কেবল) তার ক্ষমতার কারণে আল্লাহ তাআলা তার অসহায়ত্বই বৃদ্ধি করবেন। যে ব্যক্তি কোন নারীকে বিবাহ করবে তার সম্পদের লোভে, আল্লাহ তাআলা তার দারিদ্র্যই বৃদ্ধি করবেন, যে ব্যক্তি কোন নারীকে বিবাহ করবে তার বংশমর্যাদার কারণে আল্লাহ তাআলা তার হীনতাই বৃদ্ধি করবেন আর যে ব্যক্তি কোন নারীকে বিবাহ করবে নিজ দৃষ্টি সংযতকরণ, চরিত্রের হেফাযত ও আত্মীয়তা রক্ষার উদ্দেশ্যে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য তার স্ত্রীকে এবং স্ত্রীর জন্য তাকে কল্যাণময় করবেন।”(তবারানী, আলআওসাত, হাদীস : ২৩৪২)

পাত্র-পাত্রী নির্বাচনে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশনা হল-إذا خطب إليكم من ترضون دينه وخلقه فزوجوه إلا تفعلوا تكن فتنة في الأرض وفساد عريض.‘যার দ্বীনদারী ও আখলাক-চরিত্রে তোমরা সন্তুষ্ট, এমন কেউ প্রস্তাব দিলে তার সাথে তোমরা বিবাহ সম্পন্ন কর। তা না করলে পৃথিবীতে ফিৎনা দেখা দেবে ও ব্যাপক ফ্যাসাদ ছড়িয়ে পড়বে।’(তিরমিযী, হাদীস : ১০৮৪)

এবং আরো ইরশাদ হয়েছে,تنكح المرأة لأربع : لمالها ولحسبها ولجمالها ولدينها فاظفر بذات الدين تربت يداك.‘নারীকে বিবাহ করা হয় চারটি জিনিস দেখে। তার সম্পদ দেখে, বংশমর্যাদা দেখে, রূপ দেখে এবং দ্বীনদারী দেখে। হে মুমিন! তুমি দ্বীনদার নারী বিবাহ করে ধন্য হয়ে যাও।’(বুখারী, হাদীস : ৫০৯০; মুসলিম, হাদীস : ১৪৬৬)

একটা চমৎকার আকর্ষণীয় হাদিস এবং তার ব্যাখ্যাটা বোঝলে স্বামী স্ত্রীর ভালবাসার গভীর মর্ম বোঝা সহজ হতে পারে ইনশাল্লাহ।।

”রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : যখন তোমাদের মধ্য হতে কোন মৃত ব্যক্তিকে কবর দেয়া হয় তখন কালো ও নীল বর্ণের দু জন ফেরেশতা আগমন করে। একজনের নাম মুনকার অন্যজনের নাম হল নাকীর। তারা তাকে জিজ্ঞেস করে, এই ব্যক্তি সম্পর্কে তোমরা কী বলতে? সে বলবে, সে আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। আমি স্বাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। তখন ফেরেশতাদ্বয় বলবে, আমরা আগেই জানতাম তুমি এ উত্তরই দেবে। এরপর তার কবরকে সত্তর হাত প্রশস্ত করে দেয়া হয়। সেখানে আলোর ব্যবস্থা করা হয়। এরপর তাকে বলা হয়, এখন তুমি নিদ্রা যাও। সে বলবে, আমি আমার পরিবারের কাছে ফিরে যাবো, তাদেরকে (আমার অবস্থা সম্পর্কে) এ সংবাদ দেব। তখন ফেরেশতাদ্বয় তাকে বলে, তুমি ঘুমাও সেই নব বধুর মত যাকে তার প্রিয়জন ব্যতীত কেহ জাগ্রত করে না। এমনিভাবে একদিন আল্লাহ তাকে জাগ্রত করবেন।আর যদি সে ব্যক্তি মুনাফেক হয়, সে উত্তর দেবে আমি তাঁর (রাসূলুল্লাহ) সম্পর্কে মানুষকে যা বলতে শুনেছি তাই বলতাম। বাস্তব অবস্থা আমি জানি না। তাকে ফেরেশ্‌তাদ্বয় বলবে, আমরা জানতাম, তুমি এই উত্তরই দেবে। তখন মাটিকে বলা হবে তার উপর চাপ সৃষ্টি করো। মাটি এমন চাপ সৃষ্টি করবে যে, তার হাড্ডিগুলো আলাদা হয়ে যাবে। কেয়ামত সংঘটনের সময় তার উত্থান পর্যন্ত এ শাস্তি অব্যাহত থাকবে। (তিরমিজী, তিনি বলেছেন হাদীসটি হাসান গরীব। হাদীসটি ইমাম মুসলিমের বিশুদ্ধতার শর্তে উত্তীর্ণ)

বন্ধুগন উপরের হাদিসে ”এখন তুমি নিদ্রা যাও। সে বলবে, আমি আমার পরিবারের কাছে ফিরে যাবো, তাদেরকে (আমার অবস্থা সম্পর্কে) এ সংবাদ দেব। তখন ফেরেশতাদ্বয় তাকে বলে, তুমি ঘুমাও সেই নব বধুর মত যাকে তার প্রিয়জন ব্যতীত কেহ জাগ্রত করে না। এমনিভাবে একদিন আল্লাহ তাকে জাগ্রত করবেন।)” এ কথাটি কেন বলা হবে দুনিয়াতে এত কিছু থাকতে নব বধূর মত ঘুমাতে কেন বলা হবে ? কারন একটি পুরুষ জীবনে যৌবনের ১৪-২৬ বছর বা তার কম বা বেশি সময় যখন উপ্তপ্ত যৌবনের ঢৈউয়ের নানা রকম কষ্ট সয্য করে একজন নারীর প্রাকৃতিকভাবে এমন কামনীয় ভাব, আকর্ষণীয় রং, পাগলকরা ডং, চাঁদের টুকরার মত কপোল,হাসি মাখা মুখ, শরম মাখা স্বভাব, নরম মাখা প্রভাব,তীরের মত ধারালো চোখের চাহনি,মনোরম দুটি ঠোট,মুক্তা ঝরানো হাসি,নরম পেলব হাত,নানা ডংয়ের বেশ, চমক লাগানো কেশ আর কত কি যা বলা আমার লক্ষ্য নয় কেননা আমি শুধু বলতে চাই আল্লাহ্‌ তালার এই নেয়ামত সমূহকে সাজিয়ে তার স্বামীকে উপহার দেয় তখন স্বামীর কাছে বাগানের শত শত ফুল এক দিকে ,আকাশের মিটি মিটি তারা এক দিকে,হাজার গোলাপের গুচ্ছ এক দিকে, হাজার রজনীগন্ধার সুবাস এক দিকে,পূর্ণিমার চাঁদ এক দিকে,পাখির কিচির মিচির এক দিকে,আষাঢ়ের বৃষ্টি এক দিকে,গৌধুলির লুকোচুরি আলো আর অন্ধকার এক দিকে ,পাখির কোলাহল এক দিকে আর অন্য দিকে প্রিয়তম স্ত্রি স্বামীর সামনে দাঁড়িয়ে একটু মুচকি হেসে স্বামীর দিকে তাকিয়ে কিছু বলা একদিকে অথচ এক দিন কোন নারী তার সামনে আসলে সে লজ্জা পেত,বাবা ,মা ,আত্মীয় দের ভয়ে সে তার কাছ হতে দূরে থাকতো কিন্তু আজ সেই নারীর বিছানায় দু জন এক সাথে দুনিয়ার সব কিছুতে যত সুখ শান্তি আল্লাহ্‌ রেখেছে এই মিলনের মত সুখ কোন কিছুতে চিন্তা করা যায় না।স্ত্রীর ভালবাসার পর আজ তার স্বামী ছাড়া কেও জাগাতে পারে না যদিও বিয়ের পর নিজের কামরার বাহিরে সবাই আছে তবে আজ কোন ভয় নেই। ঠিক কবরে ওঁ নানা কিছুর ভয় থাকবে কিন্তু প্রশ্নের জবাব দিতে পারলে ফেরেশতাদ্বয় তাকে বলবেঃ- তুমি ঘুমাও সেই নব বধুর মত ঘুমাও, যাকে তার প্রিয়জন ব্যতীত কেহ জাগ্রত করে না। এমনিভাবে একদিন আল্লাহ তাকে জাগ্রত করবেন।ওখানে স্ত্রী স্বামীর জন্য কিছু করেই ঘুমাই এখানে কবরে ওঁ প্রশ্নের জবাব দেওয়ার পরই তাকে ঘুমাতে বলে নব বধূর মত।

আমি বুঝাতে চেয়েছি –
আজ দুনিয়াতে আল্লাহ্‌ যত কিছুতে পুরুষের জন্য সুখ রেখেছেন বা সুখ সে পেয়ে থাকে কিন্তু একজন নারীর সাথে হালাল ভালবাসার মাঝে মহান আল্লাহ্‌ তার চেয়ে কোটি গুন বেশি শান্তি রেখেছে।বাস্তব সত্য কথায় এটা দুনিয়ার যত কিছু পাওয়াকে মানুষ খুশি মনে করে কিন্তু নিজের স্ত্রীর সাথে ভালবাসার সময় মনের মত কিছু ফেলে সে সেটার চেয়ে বড় পাওয়া মনে করে যা সে অন্য কোন কিছুকে মনে করে না,যদিও ব্যাপারটা কেও প্রকাশ করে ,কেও হয়তো লজ্জার কারন প্রকাশ করে না ।আমি বিয়ে করি নি তবে এটা অজানা কোন জটিল বিষয় নয়।

বিয়ে নিয়ে সাহাবী এবং তাবীঈদের কিছু সুন্দর উক্তিঃ-

___হযরত ওমর (রাজি) আনহু বিবাহ সম্পর্কে বলেনঃ ধর্ম প্ররায়নতা বিবাহে কোন বাধা নয়। কেবল দুটি বিষয় বিবাহে বাধা সৃষ্টি করে – অক্ষমতা এবং দুশ্চরিত্রতা।

___হজরত আব্বাস (রাজি) আনহু বিবাহ সম্পর্কে বলেনঃ- বিবাহ না করা পর্যন্ত আবেদের এবাদত পূর্ণ হয় না । মানি কাম ভাব প্রবল হওয়ার কারনে অন্তরের নিরাপওা বিবাহ ব্যাতিত কল্পনীয় নয় । কেননা অন্তরের নিরাপওা ছাড়া এবাদত হতে পারেনা। এ জন্য আব্বাস রাজি আনহু তার কিছু গোলাম বালেগ হওয়ার পর তাদের এক সাথে করে তাদের বলেন- ‘ তোমরা বিবাহ করতে চাইলে, আমি তোমাদের বিবাহ করে দিতে পারি ”।-কারন মানুষ যখন বিবাহ না করে জিনাহ করে ,তখন তার অন্তর হতে ঈমান বের করে নেওয়া হয়।

____হজরত ইবনে মাসউদ (রাজি) আনহু বিবাহ সম্পর্কে বলেনঃ ধরে নেওয়া হোক যে, আমার বয়সের মাত্র ১০ দিন বাকী আছে , তবুও বিবাহ করে নেওয়া আমার কাছে ভাল মনে হয়, যাতে আল্লাহ্‌ তালাহর সামনে বিবাহিত গণ্য হয়ে যাই।

___ মুয়াজ ইবনে জাবাল (রাজি) আনহু বিবাহ সম্পর্কে কথিত আছেঃ- মুয়াজ ইবনে জাবালের ২ জন স্ত্রী মহামারীতে মৃত্যুমুখে পতিত হয় এবং নিজেও মহামারীতে আক্রান্ত ছিলেন, কিন্তু এই অবস্থায় তিনি বিবাহের ইচ্ছা প্রকাশ করে বলেছেন- ” আল্লাহ্‌র সাথে অবিবাহিত হয়ে সাক্ষাৎ করতে আমার লজ্জা বোধ হয়।

____বিশর ইবনে হারেস রহঃ বলেনঃ- ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল ৩ টি বিষয়ে আমার উপর ফজিলত রাখেন ,এক – তিনি নিজের জন্য ও অন্যের জন্য হালাল রুজি তালাশ করেন আর আমি কেবল আমার নিজের জন্য রুজি তালাশ করি । ২য় – তিনি বিবাহ করার অবকাশ রাখেন;কিন্তু আমি এই ব্যাপারে সংকীর্ণ। ৩য় – তিনি জনগণের ইমাম।

ইমাম হাম্বল (রহঃ) তার ২য় স্ত্রী মারা যাবার পরের দিন ২য় বিবাহ করেন এবং বলেন যে , রাতে মনে হয়েছে যেন আমি অবিবাহিত! সুফিয়ানা ইবনে ওরায়না বলেনঃ- অধিক বিবি দুনিয়াদারি নয় ।কেননা , হজরত আলি রাজি আনহু সাহাবিদের মধ্যে দুনিয়া ত্যাগী ছিল তবুও তার ৪ জন বিবি ছিল । এখন আপনাদের প্রশ্ন থাকতে পারে বিবাহ করলে কি উপকারিতা আছে ? হাঁ ভাই বিবাহের মধ্যে ৫ টি উপকার আছে । ১ম উপকারিতা – সন্তান হওয়া ২য় উপকারিতা – কামভাব নিবারণ করা ৩য় উপকারিতা – চিওবিনোদন এবং এর দ্বারা এবাদতে শক্তি সঞ্চয় ।কেননা মন সব সময় এবাদত হতে পলায়ন করে । মনকে জোর করে সব সময় তার ইচ্ছার খেলাফ এবাদতে রেখে রাখলে সে অবাধ্য হয়ে যাবে ।তাই পক্ষান্তরে হালাল বিনোদনের মাধ্যমে মনকে সুখ দিলে সে খুব খুশি হয়। তাই নারীর সাথে এত তৃপ্তি , এত আনন্দ -বিনোদন পাওয়া যায়; যা সকল ক্লেশ দূর করে দেয় ।

__আলি (রাজি) আনহু এ সম্পর্কে বলেনঃ একটু সময় হলেও মনকে সুখ দাও। কারন ,যখন মনকে জোর করে কাজে লাগিয়ে লাগলে মন অন্ধ হয়ে যায়। ৪র্থ উপকারিতাঃ- ঘরকন্নার ব্যাবস্থা করা তথা রান্নাবান্না করা , বাসা সাজিয়ে -গুছিয়ে রাখা মানি সংসারে একটি মেয়ে যা কিছু করে থাকে । কারন , কোন পুরুষ যদি সংসারের একা থাকে তাহলে সে সব কিছু করে বাসার বাহিরে কাজ করতে পারবেনা , এলেম – আমলে তেমন সময় পাবেনা।

____ আবু সোলায়মান দারানী বলেনঃ- পবিত্র ,নেককার স্ত্রী নিয়ে সংসার করা দুনিয়াদারির মধ্যে গণ্য করা হয়না। ” হে পরওয়াদেগার , আমাদের দুনিয়াতে পুণ্য দান কর ।

___ এই আয়াতের তাফসীর করতে গিয়ে মুহাম্মদ ইবনে কা’ব বলেন ঃ- এই আয়াতে দুনিয়ার পবিত্র নেককার স্ত্রী বুঝানো হয়েছে। হজরত ওমর রাজি বলেন- ঈমানের পর স্ত্রীর চেয়ে উওম কোন কিছু দেওয়া হয়নাই।

আর কি লিখবো ? প্রেম করবেন না বিবাহ করবেন এখন আপনি ভেবে দেখুন। আপনার অবহেলা আপনার বিয়ে করাকে অনেক বছর দূরে নিয়ে যেতে পারে আর এতে আপনি জ্বলতেই থাকবেন যৌবনকালের আগুনে।আর যদি কোন জটিল ভুল করে ফেলেন তাহলে জীবনের সকল আশা ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাবে তথা ভবিষ্যৎ দাম্পত্য জীবনে নেমে আসতে পারে অন্ধকার।

সূত্র

কৃতজ্ঞতাঃ  জাহিদ সোহাগ (প্রজন্ম ফোরাম)