*আত্ম কথা……

ভাবনা গুলো ছড়িয়ে যাক সবার প্রাণে…

দশ টাকার ভালোলাগা


এক বন্ধুর সাথে এক সাথে যেতে হবে মিটফোর্ডে, কথা ছিল দুই জন আগে এসে গুলিস্তানে একত্র হব তারপর যাব, আমি গুলিস্তানে আগে আসার কারনে ওর জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছিল। যাই হোক, গুলিস্তান নেমে কয়েক কদম হাটার পর ফুটপাথের উপর একটা খালি বেঞ্চ দেখে বসে পড়লাম। আর অপেক্ষা করতে লাগলাম…

এমনিতেই গুলিস্তান অনেক ঝামেলার এলাকা, সব সময় মানুষের জটলা বেঁধে। আমি বসেছিলাম খানিকটা কোলাহল-মুক্ত ফুটপাথে গোলাপ-শাহ্‌ মাজার আর পীরইয়ামী মার্কেটের মাঝখানে। বেঞ্চে বসে মিনিট পাঁচেক অপেক্ষা করার পর হঠাৎ কারো কান্নার শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম, খুব বেশি আগ্রহ দিলাম না শুধু অন্যমনস্ক হয়ে বসে আছি তো আছিই…আবার খানিকক্ষণ পর খেয়াল করলাম কিছুক্ষণ আগে শুনতে পাওয়া সেই কান্নার শব্দ এখন ও চলছে…একটু হালকা  উৎসুক হয়ে খেয়াল করলাম আমার ডান পাশে কয়েক হাত দূরে খালি ঘায়ে হাফপেন্ট পরা আট কি নয় বছরের একটা ছেলে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ননস্টপ ভাবেই কেঁদেই চলছে একা একা।  প্রথমে কয়েক টা হাঁকডাক দিলাম ‘এই কাঁদিস ক্যন ?’ এই ভাবে কয়েকবার বলার পর কোনও সাড়া পেলাম না। হাল ছেড়ে দিয়ে অন্য দিকে মন দিলাম, এবার নজর পড়ল ঠিক আমার বাম পাশে কিছু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা একজন মধ্য বয়স্ক মহিলা দিকে।  ময়লা কাপড় পরে আর একটা বাজারের ব্যগ কোলে নিয়ে আমার ডান দিকের কান্নারত ঐ ছেলের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে কি যেন কি বলছে। তার কথার শব্দ গুলো আমি কান পেতে শুনার চেষ্টা করছি, তার অভিব্যক্তি দেখে সহজেই বুঝা সে তার সর্বশক্তি দিয়ে উচ্চশব্দে কিছু বলতে চাচ্ছে, কিন্তু তার ক্লান্তি আর ক্ষুদা কিছুতেই তা হতে দিচ্ছে না। চেহারার অবয়ব দেখে বুঝতে পারলাম যে আমার ডানে হচ্ছে ছেলে আর বামে হচ্ছে এই ছেলের মা। কোনও ভূমিকা না করেই সরাসরি প্রশ্ন করলাম ‘ছেলেরে মারলেন ক্যন ?’ ঐ মহিলা আমার কথার কোনও উত্তর দিলো না। তাই আবার জিজ্ঞেস করলাম, মহিলা আমাকে রাস্তার পাশে কাঁচা আম বিক্রি করে একটা হকার কে দেখিয়ে যা বলল, আমার ছেলে এক টুকরা কাঁচা আম খেতে চাইছিল কিন্তু আম-ওয়ালা কে না বলে আমে হাত দেওয়ার জন্য আম-ওয়ালা তাকে হাতের মধ্যে আঘাত করেছিল আর এই জন্যই সে এত কান্নাকাটি করছে। এই কথা বলে মহিলা তার ছেলের কাছে চলে গেল, আর মায়ের আদর দিয়ে ছেলের কান্না থামানোর চেষ্টা করতে লাগল। কিন্তু ছেলের কান্না থামছে না।  আমার কাছে তখন কেমন যেন একটা খারাপ লাগা কাজ করতে লাগল।

দশ টাকা

বেঞ্চ থেকে উঠে গিয়ে পকেট থেকে দশ টাকার একটা কচকচে নোট ছেলেটার দিকে বাড়ালাম…ছেলেটার টাকা নেওয়ার ধরন টা এমন যে যেন তাকে আমি মহামূল্যবান কিছু দিচ্ছি, তার ভেজা চোখ গুলো আমার কাছে এক একটা বরফের টুকরো মনে হল সেই বরফের বাস্ফে আমি মূহুর্তেই শীতল হয়ে গেলাম, আমি যে শীতলতা অনুভব করলাম সে তা বুঝতে পেরে এমন একটা হাসি দিল আর বুঝিয়ে দিল এর বেশি কিছু দেওয়ার তার আর কোনও ক্ষমতা নেই…  আর   সাথে সাথেই তার কান্না বন্ধ হয়ে গেল। আমার চোখের সামনে এখনো সেই ছেলেটার দশ টাকা নেওয়ার দৃশ্য ভাসে…

One response to “দশ টাকার ভালোলাগা

  1. চাটিকিয়াং রুমান জুলাই 23, 2012; 11:41 অপরাহ্ন এ

    প্রিয় ব্লগার, বাংলা ওয়ার্ডপ্রেসের ব্লগার/লেখকদের নিয়ে তৈরি করা ফেসবুকের এই গ্রুপে আপনাকে যুক্ত হওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।

    https://www.facebook.com/groups/391373174244563/

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: