*আত্ম কথা……

ভাবনা গুলো ছড়িয়ে যাক সবার প্রাণে…

মমির ইতিহাস


উইকিপিডিয়া অনুসারে, মমি হলো একটি মৃতদেহ যা জীবের শরীরের নরম কোষসমষ্টিকে জলবায়ু (বায়ুর অভাব অথবা অনাবৃষ্টি অথবা মৌসুমীয় অবস্থা) এবং ইচ্ছাকৃত কারণ (বিশেষ দাফন প্রথাগুলো) থেকে রক্ষা করে। অন্যভাবে বলা যায়, মমি হলো একটি মৃতদেহ যা মানবিক প্রযুক্তির মধ্যে অথবা প্রাকৃতিকভাবে ধ্বংস এবং ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়া থেকে রক্ষা করে।

প্রায় ৫০০০ বছর আগে ইজিপ্ট এর মানুষ মনে করত তারা মারা যাবার পর তাদের মৃত দেহ সংরক্ষন করলে তাদের আত্মা ঐ মমির মধ্যে ফিরে আসে, তারা মরে যেয়েও বেঁচে থাকত তাই তারা এই ভাবে মৃত দেহ সংরক্ষন করত। প্রথম দিকে মমি সংরক্ষন পদ্ধতি জটিল ছিল তাই মৃত দেহ বেশী দিন সংরক্ষন করা যেত না। তখনকার সময় কিছু অভিজ্ঞ ব্যক্তি এই কাজে খুব পটু ছিল। তাদের কাজ ই ছিল শুধু মমি বানানো। ধরনা করা হয় একটা মমি বানাতে প্রায় ৭০ দিন সময় লাগত।

যেহেতু মমি বানানোর মূল উদ্দ্যেশ্য হচ্ছে মৃত দেহ যেন অনেক দিন অবিকৃত অবস্থায় থাকে তাই মৃত দেহ থেকে পচনশীল অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বের করে তা নানান প্রক্রিয়ার সংরক্ষন করা হত। মমি নিয়ে স্কুলে জীবনে আমার প্রচন্ড জানার আগ্রহ ছিল আজ সে আগ্রহের কিছুটা পরিপূর্ণতা পেল ।

মমি বানানোর প্রথম ধাপ হচ্ছে শরীরের পচনশীল অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গুলো আলাদা করে ফেলা, এই কাজ কে মমি এক্সপার্টরা দুই ভাগে সম্পাদন করত, প্রথমে মস্তিষ্ক বা মগজ বের করা হত নাকে চিদ্র করে।

 

নাক দিয়ে মগজ বের করা হচ্ছে

এরপর নাভীর একটু নিচে বাম পাশে অত্যন্ত যত্নের সাথে কেটে বের করা হত পাকস্থলি, ফুসফুস ও যকৃত এবং পরে এই সব স্থনে আদ্রতা দূর করার জন্য বিশেষ কিছু জিনিস এবং তার সাথে নাট্রন (লনাক্ত রাসায়নিক পদার্থ) দিয়ে ঐ স্থান গুলো পুরন করে দেওয়া হত যাতে খালি না থাকে।

বের করা হচ্ছে পাকস্থলি, ফুসফুস ও যকৃত

রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে প্রত্যেক টির জন্য আলাদা আলাদা ভাবে বিশেষ পাত্রে এই গুলো রাখা হত এবং পরে তা মমির সাথে রেখে দেওয়া হত।

পচনশীল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গুলো এই চার টি পাত্রে আলাদা ভাবে রাখা হত

তারপর পুরো শরীর নাট্রন দিয়ে ধুয়ে ফেলা হত, এবং এক ধরনের সুগন্ধী জাতীয় তেল দিয়ে পুরো শরীরে মাখা হত যাতে সুগন্ধ বের হয়।

নাট্রন দিয়ে ধুয়ে ফেলা ফেলার পর সুগন্ধী তেল দিয়ে পুরো শরীরে মাখা হচ্ছে

এরপর বায়ু রোধক একপ্রকার নাইলন কাপড় দিয়ে পুরো শরীরে মুড়ানো হত যার সাইজ ছিল প্রায় ৪০০ গজ।

বায়ু রোধক কাপড়ের প্রলেপ দেওয়া হচ্ছে

এই ভাবে ৪০৫০ দিন রাখার পর আবার সে গুলা খোলা হত। এরপর পেটের ভিতরে রাখা ঐ সব নাট্রন লাগানো ওগুলো বের করা হত এবং তার পরিবর্তে  এক প্রকার সুগন্ধি পদার্থ পেটের ভিতর ঢুকিয়ে দেওয়া হত। এর পর রাইসিন (Resine) নামক স্বচ্ছ এক প্রকার তরল পদার্থ পুরো শরীরে মেখে দেওয়া হত যাতে শরীরের কোনো অংশ পচে না যায় এবং পুরো শরীর টা শক্ত হয়ে থাকে, বলা চলে এটা এক প্রকার ফরমালিন।

রাইসিন পুরো শরীরে মেখে দেওয়া হচ্ছে

আসল কাজ প্রায় শেষ, পুরো শরীর আবার মোড়ানো হবে । এক স্তর মোড়ানো শেষ হলে শরীরের মধ্যে ৪ ধরনের এমুল্যটস (amulets) (বিশেষ ভাবে বানানো এক প্রকার পাথরের টুকরা) দিয়ে দেওয়া হয়। তারপর উপর আরেক টা প্রলেপ দেওয়া হয়। প্রলেপ দেওয়ার কাজ শেষ হলে মমি কে মুখোশ পরানো হয় যার নাম সিনাব( seneb)। এখন পুরো শরীর টা পাথরের/কাঠের বানানো কফিনে রাখা হয় । এবং তাকে একটা নব জীবন দেওয়া হল।

নব জীবন দেওয়া হল

আপনি কি মমি বানাতে চান ? তাহলে এখান যেতে পারেন হাতে কলমে শিক্ষা নিন

২০০৮ সালে শিল্পকলা একাডেমী তে একটা প্রদর্শনী ছিল…সে খানে মমির মত কিছু একটার প্রদর্শনী হয়েছিল…তাই সে সুযোগ মিস করলাম না…

মমির মত কিন্তু মমি কি না জানি না

9 responses to “মমির ইতিহাস

  1. শাহরিয়ার মার্চ 10, 2011; 9:44 অপরাহ্ন এ

    অনেক তথ্যসমৃদ্ধ লেখা…পড়ে ভালো লাগল…

  2. উমর মার্চ 15, 2011; 2:12 পুর্বাহ্ন এ

    সুন্দর লিখেছেন🙂 অনেক কিছু জানলাম…..

  3. রুমান ফেব্রুয়ারি 24, 2012; 2:22 পুর্বাহ্ন এ

    মমি সম্পর্কে জানার আগ্রহ ছিল অনেক আগে থেকে। আপনার পোষ্ট থেকে অনেক কিছু জানলাম।

  4. Aurnab Arc জুন 29, 2012; 1:21 পুর্বাহ্ন এ

    ভাইছা অনেক আমুদিত হইলাম যখন দেখিলাম আপনি আমার অধ্যয়নের বিষয় আর প্রিয় একটি টপিক নিয়ে লিখেছেন। অনেক অনেক ধন্যবাদ। অনেক সমৃদ্ধ হোক বাংলাদেশের ওয়ার্ডপ্রেস পরিবার এই প্রত্যাশায়। যদিও আপনাদের এই দলে আমি অনেক নতুন।🙂

    • রাহাত জুলাই 1, 2012; 1:00 পুর্বাহ্ন এ

      আমার কাছে সব চেয়ে বেশি আনন্দ লাগছে…আমার কোনো লেখা কারো কাছে ভালো লেগেছে জেনে…আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ মন্তব্য করার জন্য…

      • Aurnab Arc জুলাই 3, 2012; 10:24 অপরাহ্ন এ

        আজ এও বুঝলাম ভাই আমার ব্লগে আপনার শুভাগমন ঘটেছিল। ধন্যবাদ। ফেসবুক আইডি থাকলে এড করে নিয়েন। এবাউট মিতে সব লিংক পাবেন।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: