*আত্ম কথা……

ভাবনা গুলো ছড়িয়ে যাক সবার প্রাণে…

বাস সার্ভিস ও গবেষনা


প্রতিদিন নানান কাজে এদিক সেদিন যেতে হয় আমাকে। আবার কাজ শেষে বাসায় ফিরে আসতে হয়। এমনিতেই ঢাকায় যানজট অবস্থা দেশ বাসী কম বেশি সবাই জানে তাই নতুন করে আর কিছু আর বললাম না। সরকার নতুন নতুন পরিকল্পনা নিচ্ছে আর কয়েক দিন পর তা ভেস্তে যাচ্ছে । কোন স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না । যতটুকু জানি সরকার নাকি এই সমস্যা সমাধানের জন্য আন্তরিক কিন্তু ফলাফল আশাব্যঞ্জক নয়। যদি সরকারের কোন পরিকল্পনাই কাজে না আসে তাহলে ভবিষতে অবস্থা কি ভয়াভয় হবে একটু চিন্তা করে দেখেছেন!!! তারপর দিন দিন ঢাকায় মানুষ বৃদ্ধি পাচ্ছে নতুন নতুন গাড়ি নামছে নতুন নতুন বাড়ি হচ্ছে আরো নতুন নতুন অনেক কিছু হচ্ছে এই ঢাকাকেই ঘিরেই।

ঢাকাতে যোগাযোগের একটা জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে কাউন্টার বাস সার্ভিস। আর এই  কাউন্টার বাস সার্ভিস, তারা তাদের নিজেদের ইচ্ছে মত তারা তাদের ব্যবসা চালাচ্ছে সে দিকে কারো কোন মাথা ব্যথা নাই। সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নানান অকাজে কাজে তাদের কর্মমূখর দিন অতিবাহিত করে । এছাড়াও নানা সমস্যায় এই শহর জড়জড়িত সে সব সমস্যার সমাধান করতে গেলে আরেক টা নতুন সমস্যা তৈরী হচ্ছে আর এই ভাবেই আমরা মেগা সিটি হবার স্বপ্নে বিভোর হচ্ছি।

সম্প্রতি আমি ছোট খাট একটা গবেষনা করছিলাম।

বিষয়ঃ ঢাকার বাস সার্ভিস যত অনিয়ম।

আমাদের চোখের সামনে সিটিং সার্ভিস এর নাম করে সুপার লোকাল সার্ভিস দিচ্ছে ঢাকার অভ্যন্তরীন বাস সার্ভিস গুলো। সিটিং সার্ভিস এর মত ভাড়া নিয়ে তারা ঝুলিয়ে দাঁড়িইয়ে অর্থ্যাৎ নির্ধারিত আসন সংখ্যার চেয়ে অন্তিরিক্ত যাত্রী নিয়ে যাত্রী আনা নেওয়া করছে। যেন এটা একটা নিয়মে পরিনিত হয়েছে। ঢাকা শহরে এলাকা ভেদে ১০-২০ মিনিট পর পর মূল কাউন্টার থেকে বাস ছাড়া হয়। দিনের কিছু নিদিষ্ট সময়ে বাস কাউন্টার গুলোতে যাত্রী সংখ্যা তুলনামুলক ভাবে অন্য সময় থেকে বেশি থাকে এটা ও আবার এলাকা ভেদে ভিন্ন ভিন্ন থাকে যেমন মতিঝিলের অফিস পাড়ায় সকাল বেলা তুলনামুলক ভিড় কম থাকে কিন্তু বিকেল বেলা অর্থ্যাৎ অফিস ছুটির সময় যে ভাবে ভিড় থাকে তা কেউ না দেখা ছাড়া বিশ্বাস করানো সম্ভব না। আবার আবাসিক এলাকা গুলোর বাস কাউন্টারে সকাল বেলাও অনেক বেশি ভিড় লক্ষ্য করা যায়। আর তাই বাস মালিকেরা এই সুযোগ টার খুবই সৎ ব্যবহার করে আসছে। যেমন আপনি ঢাকার একটা আবাসিক এলাকায় থাকেন, সেই সময় সকাল বেলা যাত্রীর চাপ বেশি থাকে সকাল ৮টা-১১ টা পর্যন্ত। ধরুন আপনার বাসা থেকে আপনার নিদিষ্ট গন্তব্যে পৌছাতে ৪৫ মিনিট সময় লাগবে, আপনাকে যে করেই হোক সকাল দশ টার আগে পৌঁছাতে হবে তাই আপনি নয়টায় বাসা থেকে বের হলেন কাউন্টার বাসে করে আপনার গন্তব্যে পৌঁছাবেন। বাস স্টপিজে গিয়ে দেখলেন লম্বা লাইন। আর ধীরে ধীরে লাইন লম্বা থেকে লম্বাতর হচ্ছে অন্যদিকে আপনার বাস আসছে না কিন্তু লাইন লম্বা হচ্ছে, বেশ কিছুক্ষন অপেক্ষার পর বাস আসল। যাই হোক আপনি বাসে উঠার চেষ্টা করছেন কিন্তু বাসের মধ্যে আগেই সব সিট ফিলাপ হয়ে গেছে এমনি কি দাঁড়িইয়ে যাবেন যে রড ধরে তাও খালি নেই কি আর করা আপনাকে তো যেতেই হবে তাই কোন মতে উঠে বা ঝুলে পাড়ি দিলেন। কিন্তু একটা বিষয় কি লক্ষ্য করেছেন বাস মালিক যদি ব্যস্ত সময় অর্থ্যাৎ বাস ছাড়ার ডিওরেশন টা কিছু সময়ের জন্য কমিয়ে দেয় তা হলে এমন টি আর করতে হয় না। এটাই তাদের একটা বিজনেস পলিসি মানুষ কে বাঁশ দিতে। একটা বাসে করে যদি তিনটা বাসের যাত্রী পার করতে পারা যায় তাহলে তো তার ক্ষতি নেই । কারন বাস ড্রাইভারের ১ টিভ (একটা মূল কাউন্টার থেকে আরেক টা মূল কাউন্টারে যাত্রী নেওয়া) চালালো তাকে ১৫০-৩৫০ টাকা দেওয়া দেওয়া হয়। কিন্তু ১ টিভে যদি ৩ টিভের যাত্রী পার করিয়ে দেওয়া যায় ড্রাইভার কে তো ১ টিভেরই পারশ্রমিক দেওয়া হয়। সুতরাং ৩ টিভের পারশ্রমিক ১ টিভের পারশ্রমিক দিয়ে চালালে ক্ষতি কি।

অতিরিক্ত কাউন্টার পদ্ধতিঃ

কিন্তু যে সময় যাত্রীর চাপ কপ থাকে সে সময় তারা কি ভাবে তা কাভার দেয় সেটা বলছি। অতিরিক্ত কাউন্টার পদ্ধতি ব্যবহার খুব কাজে দেয়। অতিরিক্ত যাত্রী পাওয়ার জন্য বাস মালিকেরা অল্প দূরত্বে কাউন্টার বসিয়ে অতিরিক্ত যাত্রীর চাহিদা পূরন করে। যার ফলে কিছু দূর গিয়ে বাস থামে যাত্রী উঠে আবার কিছু দূর গিয়ে বাস থামে যাত্রী উঠে এই ভাবে চলতে চলতে সামনের কাউন্টার গুলোতে যাত্রীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। যার ফলে দেরীতে হলেও তারা তাদের কাংক্ষিত লক্ষ্যে পৌছে।

অর্থনীতির একটা সূত্র এই ক্ষেত্রে খুবই কাজে লাগে ‘ দীর্ঘকালীন একচেটিয়া বাজারে আস্বাভাবিক মুনাফা করা যায় না বা করা গেলেও স্থায়ী হয় না । কারন এতে প্রতিযোগী সংখ্যা বেড়ে যায় যার ফলে আস্বাভাবিক মুনাফা একটা নিদিষ্ট সময়ের পর স্বাভাবিক মুনাফার স্থায়ী হয়’

ব্যবসায়ীরা অর্থনীতি পড়ে না কিন্তু তাদের সিদ্ধান্ত গুলো অর্থনীতি যে কোন তত্ত্ব কে   নতুন করে সমালোচনায় ফেলতে পারে।

যে কোন একটা রুটে একাধিক মালিকানার বাস চলাচল করে। দূর থেকে দেখলে অমিল মনে হলেও কাছ থেকে দেখলে কোন অমিল নাই। যেমন ফার্মগেট থেকে মৌচাক পর্যন্ত ভাড়া স্বকল্প নামক একটা পরিবহন কোম্পনীর ভাড়া ৬ টাকা আবার একই রাস্তায় আসা যাওয়া করে আরেকটা বাস কোম্পানী লাব্বাইক তাদের ভাড়া ১০ টাকা আবার ৬ নাম্বার সিটি বাস ফার্মগেট থেকে মৌচাক পর্যন্ত ভাড়া ৪ টাকা । তাহলে কি ১০ টাকার বাস মালিকেরা বেশি লাভ করছে নাকি ৪ টাকার মাস মালিকেরা কম লাভ করছে ?

উল্লেখিত তিনটি বাস ই সিএনজি চালিত।

এসব বিষয় নিয়ে কারো কোন মাথাব্যাথা নাই। কে বা এই সব নিয়ে ভাববে ? প্রতিনিয়ত আমরা যারা বাসে চলাচল করি তাদের কাছে আমরা আমাদের আসহায়ত্তের পরিচয় দিয়ে আসছি তারা ও ধরেও নিচ্ছে তাদের বাস ছাড়া আমরা অসহায়। আরেক টা সূত্র থেকে জানতে পারলাম এইসব বাস মালিক পরোক্ষ ভাবে মালিক পুলিশের বিভিন্ন সার্জেন্ট তাই বাস মালিকদের সব অনিয়ম ধামাচাপা থাকে।

কিন্তু আমার জানামতে কয়েকটা পরিবহন আছে যারা নির্ধারিত আসনের অতিরিক্ত যাত্রী নেয় না কিন্তু তাদের ভাড়া একটু বেশিই…কিন্তু তা সব শ্রেনীর মানুষের আওতার বাহিরে থাকে।

এতক্ষন তো বাস মালিকদের কথা বললাম এবার বলি হেল্পার দের কথা কাউন্টার ছাড়া যাত্রী তুলে তারাও কিছু হাতিয়ে নেয় আবার অনেক পাবলিক আছে তারা নিদিষ্ট দূরত্বের বেশি ভ্রমন করে বাস মালিক দের ও হাকলা ধরনের বাঁশ প্রদান করে তবে মাঝে মাঝে ধরাও খায়।

আর এই ভাবে চলছে আমাদের এই দেশ

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: